আজ থেকে মরক্কোতে আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (AFCON) উদ্বোধন হয়েছে। মিশরের জাতীয় দল, যেখানে লিভারপুলের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহও অন্তর্ভুক্ত, ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে এবং আগামীকাল জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলা হবে।
সালাহের ক্যারিয়ারকে ঘিরে গর্বের তালিকায় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, ইউইফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ এবং দেশীয় কাপসহ বহু ট্রফি অন্তর্ভুক্ত। তিনি লিভারপুলের হয়ে গড়ে তোলেন অসংখ্য গোল রেকর্ড, তবে আফ্রিকান কাপের শিরোপা তার সংগ্রহে এখনও অনুপস্থিত।
মিশর পূর্বে তিনবার আফ্রিকান কাপের ফাইনালে পৌঁছেছে, কিন্তু প্রত্যেকবারই স্বর্ণপদক থেকে দূরে রইছে। ২০১৭ সালে গ্যাবনে ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে ফাইনালে শেষ মুহূর্তের গোলের কারণে স্বপ্ন ভেঙে যায়। ২০২২ সালে ক্যামেরুনের মাটিতে অতিরিক্ত সময়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে সেনেগালের কাছে পরাজয় হয়। ২০১৯ সালে কায়রোতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করে রাউন্ড অফ ১৬-এ বেরিয়ে আসে, তবে সেখানেই শেষ হয়।
গত বছর আইভরি কোস্টে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টেও মিশর একই রকম দুঃখজনক ফলাফল দেখায়। গ্রুপ পর্যায়ের প্রথম ম্যাচে মোজাম্বিকের বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে সালাহের গোল দলকে এক পয়েন্ট এনে দেয়, তবে পরের ম্যাচে তার আঘাতের কারণে তিনি টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়েন। রাউন্ড অফ ১৬-এ কঙ্গোর কাছে পেনাল্টি শুটআউটে পরাজয় মিশরের যাত্রা শেষ করে।
এখন ৩৩ বছর বয়সী সালাহের জন্য এই টুর্নামেন্টটি চতুর্থ ধারাবাহিক ব্যর্থতা। তার ক্যারিয়ারে এতগুলো ট্রফি থাকলেও আফ্রিকান কাপের স্বর্ণপদক এখনও তার তালিকায় নেই। তবু তিনি জাতীয় দলে যোগদানের পর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রকাশ করেছেন, “একদিন মিশরের হয়ে আমি এই শিরোপা জিতব।” এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে তার ব্যক্তিগত লক্ষ্য এবং দেশের গর্বের মিশ্রণ স্পষ্ট।
মৌসুমের শেষের দিকে লিভারপুলের পারফরম্যান্সে কিছুটা ঢিলা দেখা যাচ্ছে, যা সালাহের ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে তিনি মরক্কোর সমুদ্রতীরবর্তী শহর আগাদিরে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে মিশরের দলকে গ্রুপের শীর্ষস্থান অর্জনের জন্য কঠোর প্রতিযোগিতা মোকাবেলা করতে হবে।
AFCON ২০২৫-এ মিশরের প্রথম ম্যাচের সময়সূচি নিশ্চিত হয়েছে; দলটি আগামীকাল জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে। ম্যাচের ফলাফল নির্ভর করবে দলের সামগ্রিক প্রস্তুতি, সালাহের শারীরিক অবস্থা এবং গ্রুপের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীর পারফরম্যান্সের ওপর। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে মিশরকে একই গ্রুপের অন্য দুই দল—আলজেরিয়া ও গিনি—এর সঙ্গে মুখোমুখি হতে হবে, যা টুর্নামেন্টের অগ্রগতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সালাহের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনুমান করা কঠিন, তবে তার বর্তমান বয়স এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করলে ২০২৭ সালের পরবর্তী আফ্রিকান কাপের দিকে তাকিয়ে দেখা যেতে পারে যে তিনি এখনও শীর্ষ ফর্মে থাকবেন কিনা। তবু তার বর্তমান আত্মবিশ্বাস এবং দলের সমর্থন তাকে এই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিতে উৎসাহিত করবে।
মোরক্কোর এই টুর্নামেন্টে মিশরের পারফরম্যান্স এবং সালাহের ব্যক্তিগত অবদান উভয়ই আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করতে পারে। শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয় করা হবে না কি না, তা নির্ভর করবে মাঠে গঠিত কৌশল, খেলোয়াড়দের শারীরিক প্রস্তুতি এবং ম্যাচের মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর।



