ঝাড়খণ্ডের রাঁচি জেলার শুনশান রেলস্টেশনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৫:৩০ টার কাছাকাছি একটি যৌন আক্রমণের অভিযোগে ৪২ বছর বয়সী এক সেনা সদস্যকে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনীর (আরপিএফ) কর্মীরা গ্রেফতার করেছে। ঘটনায় ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে লক্ষ্য করে অপরাধী রেলগাড়ির একটি ফাঁকা কামরায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায়, শুনশান রেলস্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষা করছিলেন ওই তরুণী। ট্রেনের আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি গাড়িতে ওঠেন। একই সময়ে, সেনা বাহিনীর পটীয়ালা রেজিমেন্টে কর্মরত ৪২ বছর বয়সী এক সৈনিকও গাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। তার ওপর অভিযোগ যে, তিনি তরুণীকে টেনে নিয়ে একটি ফাঁকা কামরায় নিয়ে গিয়ে যৌন আক্রমণের চেষ্টা করেন।
অভিযুক্তের কাজের ফলে তরুণী কান্না ও চিৎকার করতে থাকে, যা কাছাকাছি থাকা আরপিএফ কর্মীদের শোনা যায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো রেলওয়ে পুলিশ তরুণীর কণ্ঠস্বর শুনে গাড়ির দিকে দৌড়ে যায় এবং অপরাধীকে তাড়া করে। পালানোর চেষ্টা করার সময় তিনি গাড়ি থেকে পড়ে আঘাত পেয়ে গিয়ে ধরা পড়েন।
অভিযুক্তের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে এবং তিনি পাঞ্জাবের পটীয়ালা রেজিমেন্টে সেবা করছেন। আরপিএফের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত গাড়িতে সেনা সামগ্রী পরিবহন করছিলেন এবং তিনি মত্ত অবস্থায় ছিলেন, যা প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তরুণীর চিৎকার শোনার পর রেলওয়ে পুলিশ তৎক্ষণাৎ গাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে অপরাধীকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।
ঘটনাস্থলে গ্রেফতারকৃত সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর) দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি হেফাজতে রয়েছেন এবং তদন্ত চলমান।
অনুসন্ধানকারী দল তরুণীর বিবৃতি সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রেলওয়ে পুলিশ ও আরপিএফের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ, গাড়ির সিকিউরিটি ক্যামেরা রেকর্ড এবং গাড়ির অভ্যন্তরীণ অবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া, অভিযুক্তের মদ্যপান সংক্রান্ত প্রমাণও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের আইনের অধীনে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া সম্ভব। তবে, বিচারিক হেফাজতে রাখার সময় পর্যন্ত অপরাধীর মুক্তি না পাওয়া এবং ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
রাঁচি রেলস্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব রয়েছে। রেলপথে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনীর উপস্থিতি ও তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে, যাত্রীদের সতর্কতা এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত সাহায্য চাওয়ার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
এই ঘটনা রেলগাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তদন্তের ফলাফল এবং আদালতের রায়ের ভিত্তিতে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।



