22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যম্যাঞ্চেস্টারশায়ার পরিবারে প্রথম ক্রিসমাস, স্বামী স্ত্রীর শেষ কথায় সান্ত্বনা পান

ম্যাঞ্চেস্টারশায়ার পরিবারে প্রথম ক্রিসমাস, স্বামী স্ত্রীর শেষ কথায় সান্ত্বনা পান

ম্যাঞ্চেস্টারশায়ার, টিমপার্লি শহরে বসবাসকারী ৪২ বছর বয়সী যান্ত্রিক প্রকৌশলী অ্যান্ড্রু হ্যামিল্টন, তার স্ত্রীর অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর এক বছর পর প্রথম ক্রিসমাস উদযাপন করছেন। তার স্ত্রীর নাম জোই, ৩৮ বছর বয়সে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতার ফলে মারা যান, যা প্রায়ই ‘সাডেন অ্যাডাল্ট ডেথ সিনড্রোম’ নামে পরিচিত। দুজনের দুইটি ছোট ছেলে আছে, এবং পরিবারটি এই ছুটির দিনটি কিভাবে কাটাবে তা নিয়ে এখনো ভাবনা চলছে।

অ্যান্ড্রু এবং জোই দুজনই কর্মজীবী, অ্যান্ড্রু পারমাণবিক শক্তি খাতে কাজ করেন, আর জোই ম্যানচেস্টার একটি আইন সংস্থায় পার্টনার ছিলেন। দুজনের সম্পর্ককে তিনি “একসাথে জীবন গড়ে তোলা” হিসেবে বর্ণনা করেন। সন্তানদের সঙ্গে বাড়িতে খেলনা, ছবি এবং বিড়ালের সান্নিধ্যে গড়ে ওঠা এই পরিবারে, দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে তিনি মূল্যবান বলে উল্লেখ করেন।

মে মাসের শেষের দিকে, দুজনই একটি বন্ধুকে দেখতে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়ির মধ্যে জোই হঠাৎ বললেন, “আমি জীবনে যা চাইছিলাম সবই পেয়েছি।” এই কথাটি অ্যান্ড্রুকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে এবং তিনি এখনো সেই মুহূর্তটি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই কথাগুলো তাকে কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি প্রদান করে।

জোইর মৃত্যু হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতার ফলে ঘটেছিল, যা পূর্বে কোনো লক্ষণ দেখায়নি। তার মৃত্যুর কারণের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যাখ্যা না করলেও, এটি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অপ্রত্যাশিত হৃদরোগের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অ্যান্ড্রু জানান, জোইর মৃত্যু তার জন্য এক অপ্রত্যাশিত শক ছিল এবং তিনি এখনো শোকের সঙ্গে মোকাবিলা করছেন।

প্রথম ক্রিসমাসে, অ্যান্ড্রু জোর দিয়ে বলেন যে, আমরা প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের অনুভূতি প্রকাশে যথেষ্ট মনোযোগ দিই না। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রতিদিনের ছোট ছোট কথায়—যেমন, তুমি আজ সুন্দর দেখাচ্ছো, আমি তোমার সঙ্গে থাকতে পেরে খুশি—প্রেমের প্রকাশ করা উচিত।” তিনি স্বীকার করেন, তিনি অতীতে এই ধরনের প্রকাশে কম ছিলেন এবং এখন তা পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন।

অ্যান্ড্রু বিশ্বাস করেন যে, সমাজে মৃত্যু নিয়ে কথা বলা এখনও একটি ট্যাবু। মানুষ প্রায়ই জানে না কীভাবে শোকের সময়ে সমর্থন জানাতে হয়, কী বলতে হবে বা কীভাবে আচরণ করতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, শোকের সময়ে তিনি নিজেও “দুর্বল” ছিলেন এবং প্রায়ই নিজেকে আলাদা করে রাখতেন।

শোকের সঙ্গে মোকাবিলার জন্য অ্যান্ড্রু কিছু সহজ কিন্তু কার্যকরী উপায় শেয়ার করেন। তিনি বলেন, শোকের অনুভূতিকে স্বীকার করা এবং কোনো বিশেষ শব্দ না বললেও উপস্থিত থাকা যথেষ্ট। “যা করা সম্ভব, তা করুন; কী করা উচিত তা না জিজ্ঞেস করে, শুধু সাহায্য করুন,” তিনি বলেন। তিনি আরও যোগ করেন, শোকের সময়ে মানুষকে কী দরকার তা জানার চেয়ে, তাদের পাশে থাকা এবং সমর্থন দেখানোই গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যান্ড্রুর অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, শোকের সময়ে পরিবার ও বন্ধুদের ছোট ছোট সহানুভূতি, উপস্থিতি এবং স্নেহই সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা দেয়। তিনি পাঠকদেরকে আহ্বান করেন, শোকের সময়ে কোনো বিশেষ পরামর্শ না জেনে, শুধু উপস্থিতি এবং সহানুভূতি দিয়ে সাহায্য করা উচিত। শেষ পর্যন্ত, তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনি কি আপনার প্রিয়জনকে যথেষ্ট সময়ে ভালোবাসা ও সম্মান জানিয়েছেন?” এই প্রশ্নটি পাঠকদেরকে নিজের জীবনের মূল্যায়ন করতে উদ্বুদ্ধ করবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments