১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্যাসাডেনা সিভিক অডিটোরিয়ামে অল্টাডেনা বাসিন্দা জন সি. রেইলি হোস্ট করে একটি একক রাতের কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে, যার মূল উদ্দেশ্য গত বছর ইটন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান। এই উদ্যোগটি দাওস ব্যান্ডের আয়োজনে পরিচালিত, এবং কনসার্টের টিকিটের আয় অল্টাডেনা বিল্ডস ব্যাক ফাউন্ডেশনকে দান করা হবে।
কনসার্টের লাইন‑আপ সম্প্রসারিত হয়ে রুফাস ওয়েনরাইট, লুসিয়াস, লর্ড হিউরন এবং ব্ল্যাক আইড পিসের ট্যাবু সহ আরও বেশ কয়েকজন শিল্পী যোগ দিয়েছেন। নতুন যুক্ত শিল্পীরা পূর্বে ঘোষিত ব্র্যান্ডন ফ্লাওয়ার্স (দ্য কিলার্স) এবং ব্র্যাড পেইস্লির সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত হবে।
হোস্ট জন সি. রেইলির নিজের বাড়ি ইটন অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হওয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই দাতব্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন, যা তার জন্য বিশেষ অর্থবহ। রেইলি নিজে উল্লেখ করেছেন যে, তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা এই দুর্যোগের পর পুনর্গঠনের পথে রয়েছে।
দাওস ব্যান্ডের সদস্যরা কনসার্টের পরিকল্পনা ও সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং সামাজিক মিডিয়ায় ইটন অগ্নিকাণ্ডের এক বছরের স্মরণে এই ইভেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তারা জানিয়েছেন, এই রাতটি কঠিন হলেও শেষ পর্যন্ত সুন্দর হবে, কারণ এটি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নতুন আশা জাগাবে।
অন্যান্য অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মধ্যে রয়েছে এরিক ক্রাসনো, অ্যালো ব্ল্যাক, জ্যাকসন ব্রাউন, জুডিথ হিল, জেনি লুইস, ম্যান্ডি মুর, স্টিফেন স্টিলস, এভারক্লিয়ার এবং ওজোমাটলি। এই বহুমুখী তালিকা কনসার্টকে সঙ্গীতের বৈচিত্র্যপূর্ণ মেলবন্ধন করে তুলবে।
প্রাপ্ত অর্থ অল্টাডেনা বিল্ডস ব্যাক ফাউন্ডেশনকে যাবে, যা অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি পুনর্নির্মাণে কাজ করে। ফাউন্ডেশনটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পুনরায় বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করে, যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।
ইটন অগ্নিকাণ্ডের ফলে ১৯ জনের মৃত্যু, প্রায় ১,০০,০০০ বাসিন্দার স্থানচ্যুতি এবং প্রায় ৯,৫০০ কাঠামোর ধ্বংস ঘটেছিল। এই বিপর্যয় স্থানীয় সম্প্রদায়ের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং পুনর্গঠন কাজ এখনো চলমান।
দাওসের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ জানুয়ারি ঠিক এক বছর আগে ইটন অগ্নিকাণ্ডের শিখা শহরের সবকিছু জ্বালিয়ে দিয়েছিল, এবং এই স্মরণীয় দিনটি একটি ভারী রাত হলেও শেষ পর্যন্ত সুন্দর হবে। এই বার্তা কনসার্টের মিশনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
দাওসের দুই ভাই টেলর ও গ্রিফিন গোল্ডস্মিথও এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা শেয়ার করেছেন। গ্রিফিনের পরিবার পুরো বাড়ি হারিয়ে ফেলেছে এবং তিনি সামাজিক মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে, তাদের সবকিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে।
টেলর গোল্ডস্মিথের বাড়ি স্টুডিও এবং দাওসের রেকর্ডিং সরঞ্জামও অগ্নিকাণ্ডে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, যা ব্যান্ডের সৃষ্টিশীল কাজকে প্রভাবিত করেছে। এই ক্ষতি তাদের সঙ্গীত যাত্রায় একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসের গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠানে দাওস একটি বিশেষ পারফরম্যান্স দিয়ে শহরের প্রতি সম্মান জানিয়েছিল। তারা “I Love L.A.” গানে ব্র্যাড পেইস্লি, জন লেজেন্ড, শেরিল ক্রো, ব্রিটানি হাওয়ার্ড এবং সেন্ট ভিনসেন্টের সঙ্গে মঞ্চ শেয়ার করে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে তুলেছিল।
এই বেনিফিট কনসার্টটি স্থানীয় শিল্পী ও জাতীয় পর্যায়ের সেলিব্রিটিদের সমন্বয়ে গঠিত, যা ইটন অগ্নিকাণ্ডের শিকারদের জন্য তহবিল সংগ্রহের পাশাপাশি সম্প্রদায়ের পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করবে। উপস্থিতি ও দান উভয়ই পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবশেষে, কনসার্টের টিকিট কেনা ও দান করা কেবলমাত্র আর্থিক সহায়তা নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এক ধরনের মানসিক সমর্থনও প্রদান করে। এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যক্তি পুনর্গঠনের পথে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে।



