19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার ও তুরস্ক গাজা সংঘাতে স্থবিরতা বজায় রাখতে আহ্বান জানাল

যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার ও তুরস্ক গাজা সংঘাতে স্থবিরতা বজায় রাখতে আহ্বান জানাল

মিয়ামিতে শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার ও তুরস্কের উচ্চপদস্থ কূটনীতিকরা গাজা অঞ্চলে চলমান সংঘাতের স্থবিরতা রক্ষার জন্য একত্রিত হন। বৈঠকের প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি, যিনি গাজা-হামাসের মধ্যে ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি পর্যালোচনা করেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টিভ উইটকফ, মিশরের, কাতারের এবং তুরস্কের প্রতিনিধিরা একত্রে গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। এ সভা গাজা অঞ্চলে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী একটি স্কুলে হামলা ঘটায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

এই আক্রমণের ফলে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় মোট প্রায় ৪০০ জনের বেশি ফাঁসির মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুসারে, শিকড়বিহীন শরণার্থীদের আশ্রয় দিতো এমন স্কুলে ইসরায়েলি বোমা হামলা ঘটায় এই প্রাণহানি ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি উইটকফের মতে, ট্রাম্পের ২০ পয়েন্টের শান্তি পরিকল্পনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন বজায় রাখা জরুরি এবং সকল পক্ষকে তাদের দায়িত্ব পালন, সংযম বজায় রাখা এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি টুইটারে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই বিষয়টি তুলে ধরেন।

বৈঠকে প্রথম পর্যায়ের অগ্রগতির কিছু মূল দিকও উল্লেখ করা হয়। মানবিক সাহায্যের পরিমাণ বাড়ানো, বন্দি ব্যক্তিদের দেহের ফেরত, আংশিক সামরিক প্রত্যাহার এবং শত্রুতার মাত্রা হ্রাসকে অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সংঘাতের তীব্রতা কমিয়ে শান্তি প্রক্রিয়ার ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে একটি অস্থায়ী প্রশাসনের দ্রুত গঠন ও কার্যকরীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রশাসন গাজা অঞ্চলের শাসন হস্তান্তর করবে এবং হামাসের পরিবর্তে একটি মধ্যস্থতাকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে এই বিষয়ের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত পরামর্শ ও সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।

যুদ্ধবিরতির শর্তাবলীর মধ্যে ইসরায়েলকে গাজা থেকে তার সামরিক অবস্থান ত্যাগ করা, হামাসের পরিবর্তে একটি মধ্যস্থতাকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শাসন চালানো এবং আন্তর্জাতিক স্তরে একটি স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন করা অন্তর্ভুক্ত। এই বাহিনী গাজা অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং শান্তি রক্ষায় সহায়তা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিওও এই বৈঠকে উপস্থিত হয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্থিতিশীলতা বাহিনীর জন্য সৈন্য পাঠানোর আহ্বান জানান। তিনি হামাসের অস্ত্রহীনতা না হলে শান্তি প্রক্রিয়া বিপর্যস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেন এবং সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের পরবর্তী ধাপগুলোতে গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ের বাস্তবায়ন, মানবিক সাহায্যের ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকায় গাজা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি পুনর্স্থাপনের সম্ভাবনা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments