প্রিমিয়ার লিগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি ওয়েস্ট হ্যামকে ৩-০ স্কোরে পরাজিত করেছে। এর্লিং হাল্যান্ড দু’টি গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন, আর টিজজানি রেইজেন্ডার্স এক গোলের মাধ্যমে স্কোর বাড়িয়ে দেন। এই জয় সিটির জন্য ওয়েস্ট হ্যামের বিরুদ্ধে সপ্তম ধারাবাহিক জয় এবং ক্লাবের সামগ্রিক ছয় ম্যাচের জয় ধারার অংশ।
ম্যাচের শুরুতে সিটি দলটি ধারাবাহিক পাসের মাধ্যমে বলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, যা ওয়েস্ট হ্যামের রক্ষাকে ক্রমশ কঠিন করে তোলে। প্রথম গোলের মুহূর্তে ফোডেন বামফ্ল্যাঙ্কে নিকো গনজালেজের সঙ্গে পাস বিনিময় করেন, গনজালেজ বলটি হাল্যান্ডের দিকে পাঠান। গলকিপার আলফনস আরিওলা অনিচ্ছাকৃতভাবে বলটি হাল্যান্ডের দিকে ফেরত দেন, এবং হাল্যান্ডের ডান পায়ের শক্তিশালী শট গন্তব্যে পৌঁছে।
দ্বিতীয় গোলটি দ্রুতই ঘটল। রেইজেন্ডার্স মাঝখান থেকে ড্রিবল করে সিটিতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করেন এবং সঠিক সময়ে বলটি হাল্যান্ডের দিকে পাঠিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো স্কোর বাড়িয়ে দেন। তৃতীয় গোলের জন্য রায়ান চেরকি ডান দিক থেকে বলটি হাল্যান্ডের মাথার ওপর দিয়ে পাঠায়, তবে এইবার হাল্যান্ডের শুটিং লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়।
এই জয়ের মাধ্যমে সিটি দলটি এখন পর্যন্ত ছয়টি ধারাবাহিক জয় অর্জন করেছে, যেখানে ওয়েস্ট হ্যাম তাদের শেষ পাঁচটি লিগ ম্যাচে কোনো জয় না পেয়ে চলেছে। ওয়েস্ট হ্যামের শেষবার সিটির বিরুদ্ধে জয় ছিল সেপ্টেম্বর ২০১৫-এ, যখন তারা ২-১ স্কোরে রেকর্ড করেছিল। বর্তমান কোচ নুনো এস্পিরিটো সান্তোরা ২১ ম্যাচের পর সিটির বিরুদ্ধে জয় অর্জনের লক্ষ্যে দলকে প্রস্তুত করছেন।
এর্লিং হাল্যান্ডের এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ১৯টি গোল রয়েছে, যা ক্রিসমাসের আগে কোনো খেলোয়াড়ের সমান রেকর্ড—অ্যান্ডি কোলে (১৯৯৩-৯৪), কেভিন ফিলিপস (১৯৯৯-০০) এবং লুইস সুয়ারেজ (২০১৩-১৪) এর সঙ্গে। ওয়েস্ট হ্যাম এই সিজনে ১৭টি লিগ ম্যাচের মধ্যে ১০টি হারিয়েছে এবং মাত্র তিনটি জয় পেয়েছে।
আসন্ন সপ্তাহে আরসেনাল এভারটনের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের ম্যাচ খেলবে। যদি আরসেনাল জয় না পায়, তবে ক্রিসমাসের দিনে ম্যানচেস্টার সিটি টেবিলের শীর্ষে থাকবে। সিটি দলের ধারাবাহিকতা এবং আক্রমণাত্মক শক্তি আরসেনালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াবে, বিশেষ করে তারা তিনটি ধারাবাহিক রানার-আপ শেষ করার চেষ্টা করছে।
সারসংক্ষেপে, ম্যানচেস্টার সিটি এই ম্যাচে তাদের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা এবং ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা প্রমাণ করেছে, যেখানে হাল্যান্ডের গোলের দক্ষতা এবং ফোডেনের সৃষ্টিশীলতা দলকে জয়ের পথে নিয়ে গেছে। ওয়েস্ট হ্যামকে এখন তাদের রক্ষণাত্মক দুর্বলতা দূর করতে হবে এবং পরবর্তী ম্যাচে পুনরুদ্ধার করতে হবে।



