22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিবিবিএস জরিপে প্রকাশিত মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার‑সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান

বিবিএস জরিপে প্রকাশিত মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার‑সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান

বিবিএসের সাম্প্রতিক জরিপে দেশের ডিজিটাল পরিবেশের বর্তমান অবস্থা প্রকাশিত হয়েছে। ১০০ জনের মধ্যে ৮১ জন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন, আর পরিবারের অর্ধেকের বেশি ইন্টারনেটের সুবিধা পাচ্ছে। এই তথ্যগুলো দেশের প্রযুক্তি গ্রহণের গতিপথকে স্পষ্টভাবে চিত্রিত করে।

মোবাইল ফোনের ব্যবহার ব্যাপক হলেও, প্রত্যেকের নিজস্ব ডিভাইস না থাকা একটি বাস্তবতা রয়ে গেছে। জরিপে দেখা যায়, ৫৭ শতাংশ মানুষই নিজের ফোনের মালিক, বাকি ৪৩ শতাংশ শেয়ার করা বা অন্যের ডিভাইস ব্যবহার করে।

ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ব্যবহার এখনও সীমিত; ৪৯ শতাংশ মানুষই নিজেরাই অনলাইনে সংযুক্ত। তবে পরিবারের স্তরে ইন্টারনেটের প্রবেশ ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নির্দেশ করে যে অধিকাংশ গৃহে নেট সংযোগের সুবিধা উপলব্ধ।

লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুরুষ ও নারীর মোবাইল ব্যবহার প্রায় সমান, পুরুষের হার ৮১ শতাংশ, নারীর হার ৭৯ শতাংশ। তবে ডিভাইসের মালিকানায় পার্থক্য স্পষ্ট: ৬৩ শতাংশ পুরুষের নিজের অন্তত একটি ফোন আছে, যেখানে নারীর এই হার ৫৩ শতাংশে সীমাবদ্ধ।

ইন্টারনেট ব্যবহারেও লিঙ্গের ফাঁক রয়েছে। পুরুষের মধ্যে ৫১ শতাংশই নিয়মিত নেট ব্যবহার করেন, নারীর অংশ ৪৬ শতাংশের একটু বেশি। এই পার্থক্যটি ডিজিটাল সাক্ষরতার ক্ষেত্রে এখনও কাজের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

ডিজিটাল ডিভাইসের মালিকানায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবর্তন ঘটেছে। ২০২২ সালে দেশের ৬১.৮ শতাংশ মানুষের নিজস্ব মোবাইল ফোন ছিল, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কমে ৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, ইন্টারনেট ব্যবহার ২০২২ সালে ৩৮.৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকলেও, তিন বছর পর ৪৮.৯ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গৃহস্থালিতে অন্যান্য মিডিয়া ডিভাইসের উপস্থিতি নিম্নরূপ: রেডিও ব্যবহারকারী পরিবার ১৫ শতাংশ, টেলিভিশন ৫৯ শতাংশ, কম্পিউটার ৯.১ শতাংশ, এবং বিদ্যুৎ সংযোগ ৯৯ শতাংশ গৃহে রয়েছে। এই সংখ্যা গুলো দেশের মিডিয়া গ্রহণের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।

শহর ও গ্রামাঞ্চলের তুলনায় স্মার্টফোনের প্রবেশে পার্থক্য স্পষ্ট। শহরের ৮১ শতাংশ পরিবারে অন্তত একটি স্মার্টফোন রয়েছে, যেখানে গ্রামীণ এলাকায় এই হার ৬৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ। তবে সাধারণ মোবাইল ফোনের ব্যবহার উভয় ক্ষেত্রেই প্রায় সমান, যা নির্দেশ করে যে মৌলিক মোবাইল সংযোগে নগর-গ্রাম পার্থক্য কমে আসছে।

ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেটের বিস্তারও ত্বরান্বিত হয়েছে। যদিও ব্যক্তিগত ইন্টারনেট ব্যবহার এখনও অর্ধেকের নিচে, পরিবারের স্তরে নেট সংযোগের হার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থিক সেবার ডিজিটালাইজেশনকে ত্বরান্বিত করবে।

প্রযুক্তি কলামিস্টের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই প্রবণতা দেশের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নীতির সাফল্যকে নির্দেশ করে, তবে লিঙ্গভিত্তিক ফাঁক এবং গ্রামীণ এলাকায় স্মার্টফোনের কম প্রবেশ এখনও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

ভবিষ্যতে যদি সরকার ও বেসরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে ডিভাইসের সাশ্রয়ীতা এবং নেটওয়ার্কের গুণগত মান উন্নত করে, তবে আরও বেশি পরিবারই উচ্চগতির ইন্টারনেটের সুবিধা পাবে, এবং ডিজিটাল অর্থনীতির অংশ হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments