বিপিএল নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স মাঠে প্রথম পা রাখে। শনিবারই দলটি কিট ব্যাগ কাঁধে নিয়ে মাঠে উপস্থিত হয়ে অনুশীলন শুরু করে, যা অন্য ছয়টি দলের তুলনায় আগে। এই আগাম প্রস্তুতি দলকে আসন্ন প্রতিযোগিতার জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
কোচ হান্নান সরকার বলছেন, মুশফিকুর রহমানের উপস্থিতি শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড়ের দিকেই নয়, দলের সামগ্রিক শক্তির দিকেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যোগ করেন, “মুশফিক আমাদের দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, তাকে আমরা লিডার হিসেবে বিবেচনা করি। তার অভিজ্ঞতা দলের জন্য বড় সম্পদ।”
হান্নান আরও উল্লেখ করেন, মুশফিকের স্বভাব খুবই পজিটিভ এবং তিনি রাজশাহীর স্থানীয়, তাই ঘরের দলে খেলার জন্য তার বিশেষ আবেগ রয়েছে। “মুশফিকের সঙ্গে কথা বলার পর আমি বুঝতে পারি, তার নেতৃত্বের ধরন আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হবে,” কোচ বলেন।
রাজশাহী দলে আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ নাম যোগ হয়েছে—জাতীয় টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শান্তও মুশফিকের সঙ্গে একই দলে খেলা শুরু করেছে, যা দলের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ভারসাম্যকে আরও মজবুত করবে।
শান্তের সঙ্গে হান্নানের পূর্বের কাজের সম্পর্কও উল্লেখযোগ্য। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে হান্নানের কোচিংয়ে শান্তের অধিনায়কত্বে আবাহনী লিমিটেড চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেই সময়ে কোচ শান্তের নেতৃত্বের গুণাবলি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
কোচ হান্নান শান্তের নেতৃত্বের ব্যাপারে বলেন, “শান্ত তিনটি ফরম্যাটেই সফলভাবে অধিনায়কত্ব পালন করেছেন। এলিট লেভেলে তার অধিনায়কত্বের সূচনা আমি কাছ থেকে দেখেছি।” তিনি যোগ করেন, “শান্ত খুবই ভালো টিমম্যান, দলের ফলাফল আনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অপরিহার্য। নিজে ভালো না খেললেও কীভাবে দল থেকে সেরাটা বের করে আনতে হয়, তা সে জানে।”
শান্তের টিমম্যানশিপের প্রশংসা করে হান্নান আরও বলেন, “আবাহনী লিমিটেডে আমরা তার এই গুণাবলি স্পষ্টভাবে দেখেছি। তিনি দলের মনোবল বাড়াতে এবং প্রতিটি খেলোয়াড়কে তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদর্শনে সক্ষম।”
ক্যাপ্টেনশিপের দায়িত্ব এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। হান্নান কোচ স্বীকার করেন, “শান্তের অধিনায়কত্বের সম্ভাবনা আছে, তবে মুশফিক এবং আকবরেরাও প্রমাণিত অধিনায়ক। আমাদের কাছে বেশ কয়েকজন উপযুক্ত প্রার্থী আছে।”
কোচের মতে, অধিনায়ক নির্বাচন নিয়ে দলটির একটি “মধুর সমস্যা” রয়েছে, অর্থাৎ একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকায় সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। তিনি জানান, “খুব শিগগিরই সবাই জানবে কে ক্যাপ্টেন হবে,” তবে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
প্রস্তুতি পর্যায়ে দলটি মাঠের শারীরিক অবস্থা, ফিল্ডিং drills এবং ব্যাটিং ও বোলিং সেশনগুলোতে মনোযোগ দিচ্ছে। কোচ হান্নান বিশ্বাস করেন, এই সূক্ষ্ম প্রস্তুতি দলকে মৌসুমের প্রথম ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করতে সাহায্য করবে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রথম ম্যাচের সূচি শীঘ্রই প্রকাশিত হবে, এবং দলটি এই প্রস্তুতি পর্যায়কে ভিত্তি করে শীঘ্রই মাঠে নিজের ছাপ ফেলবে।



