রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের মতে, সরকারী নির্দেশে নির্দিষ্ট ছয়টি রুটে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে; সব রুটে নয়। এই পদক্ষেপটি পুরনো সেতু ও অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় পূরণের জন্য নেওয়া হয়েছে, যা রেলখাতের আর্থিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা‑চট্টগ্রাম রুটে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ২০১২ সালে ৫৮৫ টাকা ছিল। একই আসন ২০১৬ সালে ৭২৫ টাকায় বৃদ্ধি পায়, এবং ২০২৪ সালে রেয়াতি সুবিধা বাতিলের পর ৮৫৫ টাকা হয়ে দাঁড়ায়। নতুন পন্টেজ চার্জ যুক্ত হওয়ার ফলে বর্তমান ভাড়া ৯৪৩ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
ঢাকা‑কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের স্নিগ্ধা আসনের মূল্যের পরিবর্তনও স্পষ্ট। পূর্বে ১,৩২২ টাকা ধার্য ভাড়া এখন ১,৪৪৯ টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ রুটের এসি বার্থের ভাড়া ২,৪৩০ টাকা থেকে ২,৬৫৬ টাকায় উঠে গেছে। উভয় রুটে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।
এই ভাড়া বৃদ্ধি রেলওয়ের আয় বাড়ানোর সরাসরি উদ্দেশ্য বহন করে। পুরনো সেতু, সিগন্যাল ও রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় সামাল দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত রাজস্ব প্রয়োজন, যা ভাড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। একই সঙ্গে, নতুন পন্টেজ চার্জের সংযোজন রেলপথের ব্যবহারিক খরচের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ভাড়া বাড়ার ফলে রেলযাত্রীদের ব্যয়বহুলতা বাড়বে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের গোষ্ঠী বিকল্প পরিবহন, যেমন বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি, বেছে নিতে পারে। তবে রেলওয়ের দ্রুতগতি, নিরাপত্তা ও সময়নিষ্ঠা এখনও অনেক যাত্রীকে আকৃষ্ট করে রাখে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভাড়া বৃদ্ধি স্বল্পমেয়াদে আয় বাড়াতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে চাহিদা হ্রাসের ঝুঁকি থাকে। যদি ভাড়া বৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে, তবে রেলখাতের বাজার শেয়ার হ্রাস পেতে পারে, বিশেষ করে যখন সড়ক পরিবহন উন্নত হচ্ছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হল ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা। উদাহরণস্বরূপ, নির্দিষ্ট সময়ে ছাড় বা প্যাকেজ ডিল চালু করে যাত্রীদের আকৃষ্ট করা যেতে পারে। এছাড়া, সেতু ও অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত চার্জের প্রয়োজন কমানো সম্ভব।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা বিবেচনা করলে, রেলখাতের আয় বাড়াতে ভাড়া ছাড়াও সেবা মান উন্নয়ন, সময়সূচি অপ্টিমাইজেশন এবং ডিজিটাল টিকিটিং সিস্টেমের প্রসার গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের উদ্যোগগুলো যাত্রী সন্তুষ্টি বাড়িয়ে আয় বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, ঢাকা‑চট্টগ্রাম ও ঢাকা‑কক্সবাজার রুটে ভাড়া বৃদ্ধি রেলওয়ের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের আর্থিক চাহিদা মেটাতে নেওয়া পদক্ষেপ। তবে এই সিদ্ধান্তের বাজারে প্রভাব সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, যাতে যাত্রী সংখ্যা হ্রাস না পায় এবং রেলখাতের প্রতিযোগিতামূলকতা বজায় থাকে।



