27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানজার্মান প্রকৌশলী প্রথম চেয়ারলিফট ব্যবহারকারী হিসেবে মহাকাশে

জার্মান প্রকৌশলী প্রথম চেয়ারলিফট ব্যবহারকারী হিসেবে মহাকাশে

জার্মানির এক প্রকৌশলী, মিখায়েলা বেন্টহাউস, টেক্সাস থেকে উৎক্ষেপণ হয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সীমা পার করে প্রথম চেয়ারলিফট ব্যবহারকারী হিসেবে মহাকাশে পৌঁছেছেন।

বেন্টহাউস সাত বছর আগে একটি মাউন্টেন বাইক দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডের আঘাত পেয়ে চেয়ারলিফটে চলাচল করেন। তার স্বপ্ন ছিল মহাকাশযাত্রা, তাই তিনি অনলাইনে অবসরপ্রাপ্ত এক স্পেস ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সম্ভাবনা যাচাই করেন। এই ইঞ্জিনিয়ার, যিনি পূর্বে স্পেসএক্সে কাজ করেছেন, বেন্টহাউসের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্লু অরিজিনের ঐতিহাসিক দশ মিনিটের উপ-অর্বিটাল ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেন।

ব্লু অরিজিনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট নিউ শেপার, যা জেফ বেজোস প্রতিষ্ঠা করেছেন, টেক্সাসের লঞ্চ প্যাড থেকে ১৪:১৫ GMT সময়ে উৎক্ষেপণ হয়। বেন্টহাউস এবং আরও পাঁচজন অংশগ্রহণকারী রকেটের ক্যাপসুলে চড়ে, কারমান লাইন নামে পরিচিত মহাকাশের সীমা অতিক্রম করেন। উড্ডয়নের সময় তারা শূন্যমাধ্যাকর্ষণ ও পৃথিবীর বক্রতা থেকে দৃশ্য উপভোগ করেন, যা বেন্টহাউসের মতে একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা ছিল।

বেন্টহাউস, যিনি ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সিতে কাজ করেন, এই যাত্রা তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি উল্লেখ করেন যে তার আঘাতের পর থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য পৃথিবী এখনও কতটা অপ্রাপ্য। ক্যাপসুলে প্রবেশের সময় তিনি চেয়ারলিফট থেকে সরাসরি একটি বেঞ্চের সাহায্যে হ্যাচের দিকে এগিয়ে যান, যা বিশেষভাবে তার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।

ফ্লাইটের সময় হ্যান্স কোয়েনিগসমান, অবসরপ্রাপ্ত স্পেসএক্স ম্যানেজার, নিকটবর্তী সিটে বেঁধে ছিলেন, যাতে প্রয়োজনে সহায়তা প্রদান করা যায়। কোয়েনিগসমান বেন্টহাউসের দৃঢ় সংকল্পকে প্রশংসা করেন এবং বলেন, তার উদ্যমই এই উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করতে প্রেরণা জুগিয়েছে। ব্লু অরিজিনের দলও বেন্টহাউসের জন্য বিশেষ গ্রাউন্ড সাপোর্ট সরঞ্জাম যুক্ত করে ক্যাপসুলে প্রবেশ ও প্রস্থান সহজ করে।

ব্লু অরিজিনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিল জয়েস উল্লেখ করেন, এই ফ্লাইটটি স্পেস ট্যুরিজমের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা দেখায় যে মহাকাশ সকলের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে। তিনি বলেন, বেন্টহাউসের সফল উড্ডয়ন ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রতিবন্ধী মানুষকে স্পেসে যাওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

এই ঐতিহাসিক উড্ডয়নটি কেবল প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বড় অগ্রগতি। বেন্টহাউসের মতো ব্যক্তিরা যখন সীমা ভাঙে, তখন তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করে।

মহাকাশে চেয়ারলিফট ব্যবহারকারী হিসেবে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া বেন্টহাউসের এই যাত্রা, প্রযুক্তি ও অন্তর্ভুক্তির সমন্বয়ে গড়ে উঠা এক নতুন দিগন্তের সূচনা। ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা, যদি এমন সুযোগ পায়, তবে স্পেস ট্যুরিজমের দিগন্ত আরও বিস্তৃত হবে।

আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন, ভবিষ্যতে স্পেস ট্যুরিজমে আরও বেশি অন্তর্ভুক্তি সম্ভব হবে?

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments