ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সম্ভাব্য সম্প্রসারণকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি অবহিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই তথ্য NBC নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বাড়তি উদ্বেগে আছেন।
ইসরায়েলি সূত্রের মতে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প সম্প্রসারণের সম্ভাবনা বিশেষত মধ্যবছরের ইসরায়েলি সামরিক আক্রমণের পর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেই আক্রমণে ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তবে এখন সেসব স্থাপনাকে পুনর্নির্মাণের প্রচেষ্টা চলছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্রগুলোর পুনর্গঠনেও উদ্বিগ্ন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসে বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমা ব্যবহার করে আঘাত করা হয়েছিল। ইরান এই কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনাগুলোর মেরামত ও আধুনিকীকরণে মনোযোগ দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সব বিষয়কে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থা একটি কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখছে।
নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের সাক্ষাৎ ২৯ ডিসেম্বর ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রেসিডেন্সে নির্ধারিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই বৈঠকে ইসরায়েলি নেতৃত্ব ট্রাম্পকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সম্প্রসারণের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবে। এছাড়া, ইরানের এই কার্যক্রম কেবল ইসরায়েলের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্যও হুমকি স্বরূপ হতে পারে বলে জোর দেওয়া হবে।
ইসরায়েলি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হলে, যদি ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা পুনরায় গড়ে তোলার পথে অগ্রসর হয়, তবে তা অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যকে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতা বা অংশগ্রহণের দরকার হতে পারে, যা ভবিষ্যতে নতুন নিরাপত্তা চুক্তি বা কূটনৈতিক উদ্যোগের সূচনা করতে পারে।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সুবিধা পুনর্গঠন সংক্রান্ত উদ্বেগ তুলে ধরবেন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করবেন। ইসরায়েলি সরকার ইতিমধ্যে এই বিষয়গুলোকে তার কূটনৈতিক অগ্রাধিকারে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার জন্য বিভিন্ন চ্যানেল ব্যবহার করছে।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থার অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর বাড়লে তা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলবে এবং সম্ভাব্য সশস্ত্র সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়বে। তাই, ইসরায়েলি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে এই হুমকির মোকাবিলায় কূটনৈতিক ও সামরিক বিকল্পগুলো বিবেচনা করছে।
সামগ্রিকভাবে, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের আগামী বৈঠক ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। এই বৈঠকের ফলাফল ইরানের ভবিষ্যৎ কৌশল, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি গঠনে প্রভাব ফেলবে।



