27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনারায়ণগঞ্জে ধলেশ্বরী নদীতে ফেরি থেকে পাঁচটি যান পানিতে ডুবে, একজন চালক নিখোঁজ

নারায়ণগঞ্জে ধলেশ্বরী নদীতে ফেরি থেকে পাঁচটি যান পানিতে ডুবে, একজন চালক নিখোঁজ

শনি রাত ২০ ডিসেম্বর, রাত প্রায় নয়টায় নারায়ণগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর মাঝখানে একটি ফেরি থেকে পাঁচটি গাড়ি পানিতে ডুবে যায়। ঘটনায় ট্রাক, একটি মোটরসাইকেল, দুইটি ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা এবং একটি ভ্যান জড়িত ছিল। ট্রাকের চালক তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও, ভ্যানের চালক এখনও অজানা স্থানে হারিয়ে আছে।

ফেরি পূর্বে গন্তব্যের ঘাট থেকে যাত্রী ও গাড়ি নিয়ে নদী পারাপার শুরু করেছিল। মাঝনদীর প্রবাহের মাঝখানে ট্রাকের ইঞ্জিন হঠাৎ চালু হয়ে যাওয়ায়, ট্রাকটি নিজের গতিতে অগ্রসর হয় এবং সামনে থাকা অন্যান্য যানবাহনগুলো সমর্থন হারিয়ে পানিতে ডুবে যায়। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে মোট পাঁচটি গাড়ি একসাথে পানিতে নিমজ্জিত হয়।

ট্রাকের চালক দ্রুত পানির মধ্যে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন এবং নিরাপদে উদ্ধার হন। অন্যদিকে, ভ্যানের চালক পানিতে ডুবে যাওয়ার পর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি, ফলে তাকে নিখোঁজ হিসেবে ঘোষিত করা হয়েছে। মোটরসাইকেল ও অটো রিকশা চালকদের সাথেও জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়, তবে কোনো গুরুতর আঘাতের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।

নদীর তীরবর্তী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রকিবুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি উদ্ধার কাজ ত্বরান্বিত করেন। তিনি জানান, ফেরি থেকে নেমে যাওয়া যানবাহনগুলো হঠাৎ করে পানিতে ডুবে যাওয়ায় দ্রুত উদ্ধার দল গঠন করে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। ট্রাকের চালক তীরে নিরাপদে পৌঁছানোর পরই তিনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেন যে ভ্যানের চালক এখনও অদৃশ্য।

পুলিশের মতে, ভ্যানের চালকের নিখোঁজ হওয়া ঘটনাটির তদন্তের প্রধান বিষয়। বর্তমানে নৌ পুলিশ ও স্থানীয় পুলিশ দল মিলিত হয়ে সন্ধ্যা থেকে রাত্রি পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যাবেলায় নৌকা, লাইফ জ্যাকেট এবং ডাইভিং সরঞ্জাম ব্যবহার করে পানির নিচে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এছাড়া, নিকটবর্তী গ্রাম ও বাজারে তথ্য সংগ্রহের জন্য দল গঠন করা হয়েছে।

অধিক তদন্তে জানা গেছে, ট্রাকের ইঞ্জিন হঠাৎ চালু হওয়ার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। নৌ পুলিশ ইনচার্জ রকিবুজ্জামান উল্লেখ করেন, “ট্রাকের যান্ত্রিক ত্রুটি বা চালকের অযত্নের ফলে এই ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গাড়ির রেকর্ড পরীক্ষা করছি।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো অপরাধমূলক দায়িত্ব প্রমাণিত হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আইনি দিক থেকে, নদীর মাঝখানে যানবাহন ডুবিয়ে ফেললে নৌচালনা আইন ও ট্রাফিক বিধি লঙ্ঘনের শাস্তি প্রযোজ্য হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ট্রাকের চালককে অপরাধমূলক দায়িত্বে অভিযুক্ত করা হলে, জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল অথবা কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, শেষ পর্যন্ত আদালতে প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।

এই ধরনের দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে নৌপরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। নৌ পুলিশ ইতিমধ্যে নদীর পারাপার নিয়মাবলী পুনর্বিবেচনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে, ভারী গাড়ি ও ট্রাকের জন্য অতিরিক্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া ও ইঞ্জিন চেকের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

অবশেষে, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় পুলিশ দল ভ্যানের চালকের সন্ধানে রাতের শেষ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবে। সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সাফল্য না পাওয়া সত্ত্বেও, সন্ধ্যাবেলায় পানির নিচে সনাক্তকরণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালু রয়েছে। ঘটনাটির সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ হলে, ফলাফল ও আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসাধারণকে জানানো হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments