লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম শনিবার জানিয়েছেন যে, লিতানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লা গোষ্ঠীর অস্ত্রসংগ্রহের প্রথম ধাপ বছরের শেষের নির্ধারিত সময়সীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গত নভেম্বর স্বাক্ষরিত ইসরায়েল‑হিজবুল্লা যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি মূল শর্ত, যা এক বছরেরও বেশি সময়ের সংঘর্ষের পর শান্তি রক্ষার লক্ষ্যে গৃহীত হয়।
চুক্তির অধীনে ইসরায়েল সীমান্তের নিকটবর্তী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে, লিতানি নদীর দক্ষিণে, ইরান‑সমর্থিত হিজবুল্লা গোষ্ঠীর অস্ত্রসংগ্রহ শুরু করা হয়। লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন এবং প্রধানমন্ত্রী সালাম ৫ আগস্ট লেবাননীয় সেনাবাহিনীর কাছে একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন, যাতে বছরের শেষের মধ্যে দেশের অস্ত্রের একক রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়।
সালামের অফিসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লিতানি নদীর দক্ষিণে অস্ত্রসংগ্রহের প্রথম পর্যায় মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এই পর্যায়ের সমাপ্তির পর, সরকার হিজবুল্লার উত্তর দিকে, লিতানি নদীর উত্তরে অবস্থিত এলাকায় অস্ত্রসংগ্রহের দ্বিতীয় ধাপ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা সেনাবাহিনীর প্রস্তুত করা পরিকল্পনার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে।
প্রধানমন্ত্রী সালাম এই ঘোষণার আগে সাইমন কারামের সঙ্গে আলোচনা করেন, যিনি হিজবুল্লা‑ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি তদারকি কমিটির শীর্ষ নাগরিক আলোচক। শুক্রবারের বৈঠকে কমিটি শরণার্থীদের বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা, বেসামরিক সমস্যার সমাধান এবং বছরের শেষের সময়সীমা পূরণ না হলে পুনরায় যুদ্ধের ঝুঁকি কমাতে কীভাবে পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করে।
এই বৈঠকটি হিজবুল্লা‑ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের বাইরে আলোচনার পরিসর বিস্তৃত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী প্রচেষ্টার অংশ। ১৫তম বৈঠকে দক্ষিণ লেবাননের নাকোরা শহরে বেসামরিক অংশগ্রহণকারীরা শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, অর্থনৈতিক পুনর্নির্মাণ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বেইরুট দূতাবাসের মতে, এই আলোচনাগুলি ভবিষ্যতে সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের পর থেকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও আক্রমণের তীব্রতা পূর্বের তুলনায় কমে এসেছে। এই আক্রমণগুলো মূলত হিজবুল্লা গোষ্ঠীর অবশিষ্ট সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে, যা লেবাননের নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
লেবাননের সরকার এখন হিজবুল্লার অস্ত্রসংগ্রহের দ্বিতীয় ধাপের জন্য প্রস্তুত, যা লিতানি নদীর উত্তরে অবস্থিত এলাকায় সম্পন্ন হবে। এই ধাপের সফলতা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং ইসরায়েল‑লেবানন সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকারী সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে।
অস্ত্রসংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, লেবাননের সরকার দাবি করে যে, দেশের সামরিক ক্ষমতার একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে এবং হিজবুল্লার স্বতন্ত্র অস্ত্রধারী অবস্থান শেষ হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে লেবানন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা ও পুনর্গঠন প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত সমর্থন পেতে পারে।
বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি, লেবাননের সরকার অর্থনৈতিক পুনর্নির্মাণের জন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায়। হিজবুল্লার অস্ত্রসংগ্রহের অগ্রগতি এবং যুদ্ধবিরতির স্থিতিশীলতা এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলে সরকারী বিশ্লেষকরা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
সারসংক্ষেপে, লেবাননের সরকার লিতানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লার অস্ত্রসংগ্রহের প্রথম ধাপ সম্পন্নের পথে রয়েছে এবং দ্বিতীয় ধাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত শান্তি চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং দেশের নিরাপত্তা, পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।



