মোলিনিউক্সে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ড ২-০ দিয়ে উলভসকে পরাজিত করে। লুইস‑পটার দ্বিতীয়ার্ধে দু’গোল করে দলকে জয় নিশ্চিত করে, আর গার্ডিয়ান কাওইমিন কেলেহার জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেনের পেনাল্টি শট রক্ষা করে উলভসের দুর্বলতা আরও বাড়িয়ে দেয়। এই জয়ের ফলে উলভসের দশম পরাজয় সম্পন্ন হয়; ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরাজয়ের ধারাবাহিকতা রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে এবং তিনটি দলই এই রেকর্ড ভাগ করে, যারা মে মাসে লিগের শেষ অবস্থানে শেষ করেছে।
উলভসের বর্তমান পয়েন্ট মাত্র দুই, যা ক্রিসমাসের শেষে নিচের দিকে থাকা দলগুলোর জন্য স্বাভাবিক নয়। তিন বছর আগে উলভসই একই অবস্থানে ছিল, তবে তখন তাদের পয়েন্ট ছিল দশ। ক্লাবের ম্যানেজার রব এডওয়ার্ডস এই কঠিন সময়ে দলকে স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যস্ত।
ব্রেন্টফোর্ডের কোচ কিথ অ্যান্ড্রুয়েজ গত সপ্তাহে জর্ডান হেন্ডারসনকে বাদ দিয়ে ইয়েহোর ইয়ারমোলিউককে মাঠে পাঠিয়েছিলেন, যাতে দল ছয় ম্যাচের পর প্রথম জয় পেতে পারে। ম্যাচের সূচনা মাইকেল কায়োডের লম্বা থ্রো দিয়ে হয়, যা ব্রেন্টফোর্ডের দখল বাড়িয়ে দেয়। দলটি সাধারণত ৪৪% সময় বলের দখল রাখে, তবে এই ম্যাচে তা প্রায় ৭০% পর্যন্ত পৌঁছায়, যা তাদের আক্রমণাত্মক দিককে শক্তিশালী করে।
ম্যাচের আগে উলভসের তরুণ প্রশিক্ষণার্থী ইথান ম্যাকলয়েডের স্মরণে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। ইথান সম্প্রতি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন; তার ভাই কনর, যিনি বর্তমানে উলভসের আন্ডার‑২১ দলে খেলছেন, সাইডলাইনে উপস্থিত ছিলেন। এই শোকের মুহূর্তটি স্টেডিয়ামের ভক্তদের মধ্যে গভীর সহানুভূতি জাগিয়ে তুলেছিল।
ক্লাবের চেয়ারম্যান জেফ শি, যাকে সম্প্রতি অবহেলিত হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছিল, শুক্রবার পদত্যাগ করেন এবং তার পরিবর্তে নাথান শি, একই উপাধি হলেও কোনো সম্পর্ক নেই, ইন্টারিম হিসেবে দায়িত্ব নেন। ভক্তরা স্টেডিয়ামে “ফোসুন আউট” চিৎকার এবং “আমাদের ক্লাব” ব্যানার তুলতে থাকে, যা ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগের প্রকাশ।
ব্রেন্টফোর্ডের দখলশীলতা সত্ত্বেও কেলেহার প্রথম সেভটি ডেভিড মোলার ওলফের ক্রস থেকে রক্ষা করে, যা উলভসের রক্ষণকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত লুইস‑পটারের দু’গোল উলভসের ধারাবাহিক পরাজয়কে সমাপ্ত করে, এবং ব্রেন্টফোর্ডের রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা সফল প্রমাণিত হয়।
উলভসের পরবর্তী ম্যাচে তারা আবার কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যেখানে পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য তীব্র লড়াইয়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ব্রেন্টফোর্ডের জন্য এই জয় তাদের রিলিগেশন ঝুঁকি কমিয়ে দেয় এবং পরবর্তী ম্যাচে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুযোগ দেয়।



