জেমস গান্নে সাম্প্রতিক সপ্তাহে টুইটারে ঘোষণা করেছেন যে জার্মান অভিনেতা লার্স আইডিংগার ‘ম্যান অব টুমরো’ ছবিতে সুপারম্যানের শত্রু ব্রেইনিয়াকের ভূমিকায় অভিনয় করবেন। এই চলচ্চিত্রটি গ্রীষ্মে মুক্তি পেয়েছে ‘সুপারম্যান’ ছবির সরাসরি সিক্যুয়েল এবং গান্নের লিখিত ও পরিচালিত কাজের অংশ। ঘোষণার দিনটি ছিল শনিবার, যখন গান্নের এক পোস্টে নতুন কাস্টের নাম প্রকাশ পায়।
বছরের পর বছর ধরে ব্রেইনিয়াকের চরিত্রে কে অভিনয় করবে তা নিয়ে গুজব ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তবে গ্লোবাল অডিশনের পর লার্স আইডিংগারকে শীর্ষে বাছাই করা হয়। গান্নের মন্তব্যে তিনি নতুন ভিলেনের জন্য সর্বোচ্চ মানের অভিনেতা খুঁজে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
লার্স আইডিংগার ইউরোপীয় টেলিভিশন ও সিনেমায় পরিচিত মুখ, বিশেষ করে জার্মান সিরিজ ‘বাবিলন বার্লিন’‑এ তার পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়াও তিনি নেটফ্লিক্সের ‘অল দ্য লাইট উই ক্যানট সি’ এবং নোয়া বামবাখের ‘হোয়াইট নয়েজ’ ছবিতে কাজ করেছেন, যা তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।
ব্রেইনিয়াকের মূল পরিচয় ১৯৫৮ সালের ‘অ্যাকশন কমিক্স’ #২৪২‑এ, যেখানে লেখক অটো বিন্ডার এবং শিল্পী আল প্লাস্টিনো প্রথমবারের মতো এই চরিত্রকে উপস্থাপন করেন। তিনি এক অতিপ্রযুক্তি সম্পন্ন এলিয়েন, যিনি সঙ্কুচিত রশ্মি ব্যবহার করে মেট্রোপলিসের মতো বড় শহরকে ছোট করে সংগ্রহের জন্য বোতলে সংরক্ষণ করেন।
সুপারম্যানের ইতিহাসে ব্রেইনিয়াককে সর্বোচ্চ শত্রুদের মধ্যে গণ্য করা হয়, এমনকি কখনো কখনো লেক্স লুথরের সঙ্গে অস্থায়ী জোট গঠন করে সুপারম্যানকে পরাজিত করার চেষ্টা করে। এই জটিল শত্রুতার ধারা ‘ম্যান অব টুমরো’তে নতুনভাবে উপস্থাপিত হবে, যেখানে লার্সের অভিনয় শৈলী চরিত্রের বুদ্ধিমত্তা ও হুমকিকে নতুন মাত্রা দেবে।
চলচ্চিত্রে ডেভিড কোরেন্সওয়েট সুপারম্যানের ভূমিকায় ফিরে আসছেন, আর নিকোলাস হুল্ট লেক্স লুথরের চরিত্রে উপস্থিত হবেন। দুজনের মধ্যে সম্ভাব্য অস্বস্তিকর জোটের কথা গুজবে উঠে এসেছে, যা ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
‘ম্যান অব টুমরো’ ৯ জুলাই ২০২৭ তারিখে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে, যা ‘সুপারম্যান’ ছবির পরপরই বড় স্ক্রিনে আসবে। এই সময়সূচি গান্নের পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুতগতিতে কাজ সম্পন্ন করার ইঙ্গিত দেয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হোলিউডে মহামারী ও শ্রমিক ধর্মঘটের প্রভাবের ফলে সিক্যুয়েলগুলো সাধারণত দুই বছরের বেশি সময় নেয়। এই চ্যালেঞ্জগুলো সত্ত্বেও গান্নের টিম দ্রুত শুটিং ও পোস্ট-প্রোডাকশন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখছে।
গান্নই ছবির পরিচালক ও স্ক্রিপ্ট লেখক হিসেবে কাজ করবেন, পাশাপাশি ডি.সি. স্টুডিওসের সহ-প্রধান পিটার সাফ্রানের সঙ্গে প্রযোজনা দায়িত্ব ভাগ করবেন। দুজনের সহযোগিতা ডি.সি. ইউনিভার্সের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফ্যানদের জন্য এই কাস্টিং ও প্রকাশনা একটি বড় আনন্দের খবর, কারণ লার্স আইডিংগারের উপস্থিতি ব্রেইনিয়াককে নতুন রূপে উপস্থাপন করবে এবং ডি.সি. ইউনের বিস্তৃত গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। সিনেমা প্রেমিকরা এখন থেকে অপেক্ষা করতে পারেন ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে এই মহাকাব্যিক মুখোমুখি দেখার জন্য।



