ঢাকা শহরে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে দৈনিক স্টার এবং প্রথম আলো’র সদর দফতরে সমন্বিত আক্রমণ ঘটেছে। দু’টি প্রধান সংবাদপত্রের অফিসে প্রবেশকারী গোষ্ঠী ভাঙচুর, চুরি এবং অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে কর্মী ও সরঞ্জামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই হামলা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শারিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সৃষ্ট অশান্তির পরিপ্রেক্ষিতে সংঘটিত হয়।
শারিফ ওসমান হাদির মৃত্যু পরপরই ঢাকায় প্রতিবাদ ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা সত্ত্বেও, কিছু অজানা গোষ্ঠী রাতের অন্ধকারে দুইটি সংবাদপত্রের ভবনে প্রবেশ করে। তারা জানালার কাঁচ ভেঙে, দরজা ভাঙে এবং অফিসের অভ্যন্তরে থাকা কর্মীদের ঘিরে রাখে।
আক্রমণকারীরা অফিসের আসবাবপত্র, কম্পিউটার, ক্যামেরা এবং প্রিন্টিং যন্ত্রপাতি ধ্বংস করে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, যা মেঝে থেকে উপরের তলায় ছড়িয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীরা নিরাপদে বের হওয়ার জন্য ছাদে উঠতে বাধ্য হয়।
বিপদে আটকে থাকা সাংবাদিক ও কর্মীদের জন্য উদ্ধারকাজ দ্রুত শুরু হয়। অগ্নি নির্বাপক দল ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে ছাদ থেকে প্রায় ২৮ জন সাংবাদিককে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়। কিছু কর্মীকে হালকা জ্বালার শোকের কারণে চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন হয়।
হামলার পরপরই দু’টি সংবাদপত্রের প্রকাশনা একদিনের জন্য বন্ধ করা হয়। এই সিদ্ধান্তটি কর্মী ও পাঠকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়। বন্ধের পর, উভয় সংস্থা পুনরায় প্রকাশনা চালু করার প্রস্তুতি নেয়।
শুক্রবার, দৈনিক স্টার একক শব্দের শিরোনাম “অবিকল” (Unbowed) নিয়ে পুনরায় মুদ্রণ শুরু করে। এই শিরোনামটি সংস্থার অটলতা ও দৃঢ়সংকল্পের প্রতীক হিসেবে প্রকাশিত হয়। প্রকাশনা পুনরায় চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাঠকরা এই সংক্ষিপ্ত শিরোনামকে সমর্থনসূচক চিহ্ন হিসেবে গ্রহণ করে।
প্রথম আলো একই দিনে প্রকাশনা পুনরায় শুরু করে এবং প্রথম পৃষ্ঠায় “প্রথম আলো – দৈনিক স্টার আক্রমণ” শিরোনাম দেয়। এই শিরোনামটি ঘটনার প্রকৃতিকে সরাসরি তুলে ধরে এবং পাঠকদের জানায় যে সংস্থা আক্রমণের পরেও সেবা চালিয়ে যাবে।
প্রতিবাদসূচকভাবে, টাইমস অব বাংলাদেশ তার প্রথম পৃষ্ঠার উপরের অর্ধেক অংশ ফাঁকা রেখে শুধুমাত্র নিচের অর্ধেকেই সংবাদ প্রকাশ করে। এই অস্বাভাবিক বিন্যাসটি মিডিয়া নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশের একটি চিহ্ন হিসেবে দেখা যায়।
হামলার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সনাক্তকরণের জন্য ফোরেন্স দলকে নিযুক্ত করে। স্থানীয় পুলিশ প্রধানের মতে, আক্রমণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন পূর্বে প্রস্তুত ছিল এবং এটি সংগঠিত অপরাধের একটি উদাহরণ।
প্রকাশনা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে, সরকারকে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়। পাশাপাশি, প্রেস কাউন্সিলও এই ঘটনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং আইনি প্রয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়।
এই আক্রমণ দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একদিনের বিরতির পরও দু’টি প্রধান দৈনিক পুনরায় প্রকাশনা চালু করেছে, যা সাংবাদিকদের দৃঢ়সংকল্পের প্রতিফলন। তবে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।



