ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের (DUCSU) উপ-সভাপতি আবু শাদিক কায়েম আজ একটি কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি আগামীকাল বিকাল ২:৩০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে অবরোধের পরিকল্পনা জানিয়েছেন। এই পদক্ষেপের মূল দাবি হল শীঘ্রই দুইটি ছাত্রাবাসের নাম পরিবর্তন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘ফ্যাসিজম’ থেকে মুক্ত করা।
কায়েমের প্রেরিত বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতির জনক শি.মু.রহমান হলকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ এবং বাঙামাতা শি.ফা.মু.হলকে ‘ফেলানি হল’ নামে পুনঃনামকরণ করা উচিত। এই নাম পরিবর্তনের পেছনে কায়েমের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি হল, বর্তমান নামগুলোকে এমন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত করা যাঁরা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মচারীকে ‘জুলাই মাসের গণহত্যা’ সমর্থন করার অভিযোগে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি তোলা হবে। এই দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে দলটি দাবি জানিয়েছে।
বঙ্গমাতা শি.ফা.মু.হলের উপ-সভাপতি তাসনিম আক্তার আলিফ নাবিলা এই ঘোষণার প্রতি ফেসবুকে তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেন। তিনি লিখে জানান, হলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে ছাত্রদের মতামত ও ইচ্ছা বিবেচনা করা হয়নি এবং এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সকল ছাত্রের সমষ্টিগত ইচ্ছা প্রাধান্য পেতে হবে।
নাবিলা আরও উল্লেখ করেন, হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী চান যে হলের নাম ক্যাপ্টেন সিতারা বেগমের নামে রাখা হোক অথবা স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী অন্য কোনো নারী বীরের নামে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবনা হলে তা ছাত্রদের সমবায় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গৃহীত হওয়া উচিত, একতরফা ঘোষণার মাধ্যমে নয়।
এই ঘটনার পর দেশীয় প্রধান সংবাদমাধ্যম যেমন ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো ঘটনাটিকে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসের একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। মিডিয়ার এই মন্তব্যগুলো নির্দেশ করে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এমন ধরনের সংঘাত ও নাম পরিবর্তনের দাবিগুলোকে সমাজের বৃহত্তর আলোচনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
DUCSU এই অবরোধের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘ফ্যাসিজম’ থেকে মুক্ত করার বৃহত্তর লক্ষ্যকে পুনরায় জোর দিয়েছে। দলটি দাবি করে যে, শিক্ষার স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যা শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও মতামতকে কেন্দ্রে রাখে।
আপনার মতামত কী? যদি আপনার ক্যাম্পাসে এমন নাম পরিবর্তনের দাবি উঠে, তবে কীভাবে ছাত্রসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সমন্বিত ও গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়, তা নিয়ে ভাবা গুরুত্বপূর্ণ।



