২০ ডিসেম্বর ২০২৫ শনিবার রাত ৯টার দিকে উত্তরায় পুলিশ বিশেষ অভিযানে ১১ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেপ্তারগুলো উত্তরায় সদর দফতরের আশেপাশের কয়েকটি পাড়া ও গৃহবন্দী এলাকায় সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়।
অভিযানটি উত্তরায় জেলা পুলিশ প্রধানের তত্ত্বাবধানে, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইউনিট এবং ডিএমপি (ডিপার্টমেন্টাল মবিলাইজেশন প্ল্যান) দল একত্রে সম্পন্ন করে। অপারেশন শুরু হওয়ার আগে স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী সন্দেহভাজনরা অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত থাকার সম্ভাবনা ছিল, তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
পুলিশের জানানো মতে, গ্রেপ্তারকৃত ১১ জনের মধ্যে বেশিরভাগই স্থানীয় বাসিন্দা, বয়স ২৪ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। তাদের নাম ও ঠিকানা গোপনীয়তা রক্ষার জন্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে সবাইই উত্তরায়ের বিভিন্ন পাড়া থেকে আসা।
গ্রেপ্তারকৃতদের ওপর অবৈধ মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ এবং হিংসাত্মক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারী দল দাবি করে, গ্রেফতারকৃতরা সম্প্রতি একটি বড় মাদক সরবরাহ চেইনের অংশ হিসেবে কাজ করছিল।
পুলিশের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযানের সময় সন্দেহভাজনদের বাড়ি ও গুদাম থেকে বড় পরিমাণে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র এবং নগদ অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া, কয়েকটি মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ডিভাইসও জব্দ করা হয়েছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অভিযানের সময় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আঘাতের ঘটনা ঘটেনি। গ্রেপ্তারকৃতদের সবকে নিরাপদে গৃহবন্দী করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে জেলখানায় স্থানান্তর করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ এখনো চলমান, এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
উত্তরায় জেলা প্রশাসক গ্রেপ্তার সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এই ধরনের অভিযান স্থানীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।” তিনি আরও যোগ করেন, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সময়ে সময়ে জনগণকে জানানো হবে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রথম দফার রিমান্ডের আবেদন দাখিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলখানার জুডিশিয়াল অফিসার রেকর্ড অনুযায়ী, রিমান্ড শুনানি আগামী সপ্তাহের মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে। আদালতে প্রমাণ উপস্থাপনের পরই চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারিত হবে।
স্থানীয় সমাজের কিছু সদস্য গ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এই ধরনের অপরাধমূলক গোষ্ঠীর উপস্থিতি তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে। তবে কিছু পরিবারিক সদস্যের উদ্বেগও প্রকাশ পেয়েছে, কারণ গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কিছু পরিবারের প্রধানের ভূমিকা পালন করতেন।
পুলিশের মতে, এই অভিযানের মাধ্যমে উত্তরায়ে অবৈধ মাদক সরবরাহের জাল বন্ধ করার একটি বড় ধাপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ভবিষ্যতে এমন অপরাধমূলক গোষ্ঠীর পুনরায় গঠন রোধে নজরদারি বাড়ানো হবে।
উত্তরায়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি বিশেষভাবে সতর্কতা অবলম্বন করছে। এই গ্রেপ্তারগুলোকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যা অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে দমন করবে।
অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে, জেলা পুলিশ অফিসার জানান, তদন্ত দল এখনো অন্যান্য সহায়ক প্রমাণ সংগ্রহে ব্যস্ত। জব্দ করা ডিভাইস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত সন্দেহভাজন সনাক্ত করা হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, উত্তরায়ে পরিচালিত এই পুলিশি অভিযান ১১ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে, মাদক পাচার ও হিংসাত্মক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে আদালতে প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে, এবং স্থানীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নজরদারি চালু থাকবে।



