গণো অধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূর ২২ ডিসেম্বর মিডিয়া সংস্থা প্রথাম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার-এর কারওয়ান বাজার শাখা পরিদর্শন করে সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অশুভ চিহ্ন ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত অফিসের অবস্থা দেখেন এবং দেশীয় ও বিদেশী উভয় প্রান্তের সেইসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান, যারা এই ধরনের সহিংসতা উসকে দিয়েছেন।
নূর বলেন, শারিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতি জনগণের আবেগ ও সংবেদনশীলতা ব্যবহার করে কিছু অযৌক্তিক গোষ্ঠী একাধিক স্থানে, বিশেষত প্রথাম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার অফিসে ধ্বংসাত্মক কাজ করেছে।
তিনি যুক্তি দেন, এই ধ্বংসের পেছনে পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ইচ্ছা রয়েছে, যা কোনো তৃতীয় পক্ষের জন্য রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে।
হামলার সময়কালটি জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পরপরই ঘটেছে, এ বিষয়টি নূর বিশেষভাবে উল্লেখ করে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে এর সংযোগ তুলে ধরেছেন।
নূর সতর্ক করেন, যদি সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হাদির গুলি চালানো, মিডিয়া অফিসে আক্রমণ এবং সম্পাদকদের ওপর হয়রানির মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।
এ ধরনের অস্থিতিশীলতা নির্বাচনের সময়সূচি বিলম্বিত করতে পারে এবং প্রক্রিয়াটিকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে, তিনি বলেন। নির্বাচনের ফলাফল না আসা পর্যন্ত দেশের সঠিক পথে ফিরে যাওয়া কঠিন হবে।
নূর সিনিয়র সাংবাদিক নূরুল কবিরের ওপর হয়রানির নিন্দা জানিয়ে তাকে গণতন্ত্রের জন্য উঁচু স্বরে কথা বলা এবং ফ্যাসিবাদে বিরোধিতা করা এক সাহসী কণ্ঠ হিসেবে প্রশংসা করেন।
আক্রমণের রাতের ঘটনাকে স্মরণ করে তিনি বর্ণনা করেন, ছাদে আটকে থাকা মানুষজন চিৎকার করে সাহায্য চাচ্ছিল, “ভাই, আমরা মরছি, আমাদের ভবন জ্বলছে” – এমন দৃশ্যটি ১৫ মাস আগে ঘটিত বৃহৎ বিদ্রোহের পর দেশের জন্য একটি অন্ধকার বার্তা বহন করে।
নূর উল্লেখ করেন, বহু মিডিয়া কর্মী পূর্বের দমনমূলক শাসনকালে হলেও জনগণের আন্দোলনের পাশে ছিলেন এবং তাদের অবদানকে তিনি মূল্যায়ন করেন।
অবশেষে তিনি তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের আহ্বান জানান, কোনো প্রকার উস্কানির ভিত্তিতে অশান্তি সৃষ্টিতে লিপ্ত না হয়ে দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখতে এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় একসাথে কাজ করতে।
এই বিবৃতি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, নির্বাচনের সময়সূচি এবং আইনশৃঙ্খলার পুনর্গঠনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করবে।



