১৪৪৭ হিজরি সনের রজব মাসের চাঁদ আরব অঞ্চলে দেখা গেছে এবং আগামী রবিবার থেকে রজবের প্রথম দিন হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায় রমজান মাসের প্রস্তুতি ও গণনা শুরু করেছে।
গালফ নিউজের তথ্য অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাঁদ দেখা গেছে, আর একই সময়ে সৌদী আরব, কাতার ও বেহরেইনসহ কয়েকটি আরব দেশে একই রকম দৃশ্য রেকর্ড করা হয়েছে। এই দেশগুলোতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ চাঁদ দেখার পর ঐতিহ্যবাহী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রজবের সূচনা নিশ্চিত করেছে।
রজব ইসলাম ধর্মের চারটি পবিত্র মাসের একটি এবং মুসলিমদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই মাসে উপবাস, দান ও আত্মিক শুদ্ধিকরণকে উৎসাহিত করা হয়, যা রমজানের আগের প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই রজবের চাঁদ দেখা মুসলিম সমাজে এক ধরনের আধ্যাত্মিক সূচক হিসেবে স্বীকৃত।
ধর্মীয় রীতি অনুসারে রজবের পর শাবান মাস পূর্ণ হলে রমজান মাসের আগমন নিশ্চিত হয়। হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদ পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভরশীল, ফলে রজব ও শাবান দুটোই ২৯ বা ৩০ দিন হতে পারে। এই দুই মাসের সমন্বিত দৈর্ঘ্য ৬০ থেকে ৬১ দিনের মধ্যে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।
বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ চাঁদ দেখার পদ্ধতি ও সময়সূচি সমন্বয় করার চেষ্টা করে, যাতে রমজানের সূচনা একসাথে হয়। কিছু দেশ বৈজ্ঞানিক গণনা ব্যবহার করে পূর্বাভাস দেয়, আবার অন্যরা সরাসরি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। এই পার্থক্য সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মুসলিম সংস্থা সমন্বয় বাড়াতে কাজ করছে।
ইতিহাসে নবী মুহাম্মদ (সা) রজব ও শাবান মাসে আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন, যাতে উভয় মাস বরকতময় হয় এবং মুসলিমরা রমজান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই প্রথা আজও বহু মুসলিম সমাজে অনুসরণ করা হয়, যেখানে মসজিদে বিশেষ দোয়া ও তিলাওয়াত অনুষ্ঠিত হয়।
আধুনিক সময়ে চাঁদ পর্যবেক্ষণকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। অনেক দেশ এখন জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থার তথ্য ব্যবহার করে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা নির্ণয় করে, যা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও স্থানীয় ইমাম ও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে।
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ ইস্লামিক কোঅপারেশন (OIC) সাম্প্রতিক শীর্ষ সম্মেলনে রমজান সূচনার ঐকমত্য বাড়াতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও তথ্য শেয়ারিংয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল বিভিন্ন দেশ একসাথে রমজান শুরু করতে পারে, যাতে বৈশ্বিক মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য বজায় থাকে।
সৌদী আরবও রজবের চাঁদ দেখার পর রমজানের প্রথম দিন ঘোষণা করেছে, যা আরব জগতে একসাথে রমজান শুরু করার প্রবণতা শক্তিশালী করে। উভয় দেশ একই সময়ে রমজান সূচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সামঞ্জস্য বজায় থাকবে।
রমজান মাসের আগমন বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলবে। বহু বহুজাতিক কোম্পানি রমজানের সময়সূচি অনুযায়ী কাজের সময়সূচি সামঞ্জস্য করছে, যাতে কর্মচারীরা উপবাসের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে হজ ও উমরাহ ভ্রমণ পরিকল্পনাও রমজান সূচনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হচ্ছে।
শাবান মাসের চাঁদ প্রত্যাশিতভাবে আগামী সপ্তাহে দেখা যাবে, যা রমজানের সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শাবান পূর্ণ হলে রমজানের সূচনা নিশ্চিত হবে এবং বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায় একসাথে উপবাস শুরু করবে। এই পর্যায়ে ধর্মীয় ও সরকারি সংস্থা সমন্বয় করে সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করবে।
রজবের চাঁদ দেখা এবং রমজান সূচনার ঘোষণার পর মুসলিমরা একত্রে দোয়া, তাওয়াফ ও সামাজিক দানের মাধ্যমে আত্মিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছেন। এই সময়ে বিশ্বব্যাপী মসজিদে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে এবং পরিবারগুলো একত্রে ইফতার করার পরিকল্পনা করবে। রমজান শুরু হওয়া পর্যন্ত এই প্রস্তুতি ধারাবাহিকভাবে চলবে।



