20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আববার: শহীদ হত্যার পর উগ্র গোষ্ঠীর নৈরাজ্য প্রচেষ্টা

শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আববার: শহীদ হত্যার পর উগ্র গোষ্ঠীর নৈরাজ্য প্রচেষ্টা

শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আববারের মতে, শ্রীফ ওসমান বিন হাদি, যিনি সিঙ্গাপুরে নিহত হন, তার মৃত্যুর পর কিছু উগ্র ও অবিবেচক গোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন স্থানে অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই গোষ্ঠীগুলো প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়, ছায়ানট ও উদীচীর অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ভাঙার লক্ষ্যে কাজ করেছে।

শরীফ ওসমান বিন হাদি, যাকে শহীদ হিসেবে স্মরণ করা হয়, সিঙ্গাপুরে হঠাৎ ঘটিত এক হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারান। তার মৃত্যুর খবর রাতারাতি দেশে পৌঁছায় এবং দেশের বিভিন্ন অংশে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। শোকের মুহূর্তে কিছু গোষ্ঠী এই দুর্ভাগ্যকে সুযোগ করে নেয় এবং অশান্তি সৃষ্টির জন্য পদক্ষেপ নেয়।

সেই রাতের পরপরই প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টারের সদর দফতরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্র পাওয়া যায়। একই সঙ্গে, দেশের প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটের ভবনেও আগুন জ্বলে এবং তার ভিতরে সংরক্ষিত সঙ্গীত ও শিক্ষামূলক সামগ্রী ধ্বংস হয়। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়েও অনুরূপ আক্রমণ করা হয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ছায়ানটের ভেতরে নালন্দা নামে একটি বিদ্যালয় পরিচালিত হয়। এই বিদ্যালয়ও আগুনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আববার এই ঘটনাকে “গভীর নিন্দা” জানিয়ে বলেন, যে কোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ড এবং ধ্বংসের কাজ দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি আঘাত।

উদীচীর অফিসে সংঘটিত হামলাও একই রকম নিন্দার যোগ্য। উপদেষ্টা বলেন, উদীচী বাংলাদেশের অন্যতম পুরনো সাংস্কৃতিক সংগঠন, যার কর্মস্থলে আক্রমণ করা মানে দেশের শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি আক্রমণ করা। তিনি এ ধরনের কাজকে “অবিবেচক” ও “উগ্র” বলে বর্ণনা করেন।

প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে আক্রমণ এবং দেশের প্রবীণ সাংবাদিক নূরুল কবীরের ওপর করা হিংসাত্মক কাজের ব্যাপারে উপদেষ্টা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আঘাত হবে।

উপদেষ্টা সি আর আববারের মতে, এই গোষ্ঠীগুলো দেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটের ভবন দখল করে সেখানে অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে সঙ্গীত ও শিক্ষামূলক উপকরণ নষ্ট করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন কাজের পেছনে স্বার্থপরতা এবং দেশের ঐতিহ্যের প্রতি অবহেলা রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “শহীদ শরীফ ওসমান হাদির শোকের মুহূর্তে কিছু গোষ্ঠী নৈরাজ্য গড়ে তোলার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে”। এই বক্তব্যে তিনি উগ্র গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন, যা দেশের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, “এই ধরনের কর্মকাণ্ড জুলাই আন্দোলনের চেতনা কালিমালিপ্ত করার পাশাপাশি বাংলাদেশবিরোধী ফ্যাসিস্ট শক্তির ষড়যন্ত্রকে সফল করার ঝুঁকি তৈরি করে”। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই আন্দোলন দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং এর প্রতি আক্রমণ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

সরকারি দিক থেকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, উপদেষ্টা সতর্ক করেছেন যে উগ্র গোষ্ঠীর এই ধরনের কাজ যদি দমন না করা হয়, তবে তা দেশের নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও অস্থির করতে পারে এবং বহিরাগত ফ্যাসিস্ট শক্তির জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি সকল রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা দাবি করেছেন, যাতে নৈরাজ্য প্রচেষ্টা রোধ করা যায় এবং দেশের শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

এই ঘটনার পর, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠী একত্রে নিন্দা প্রকাশ করেছে এবং দেশের সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক স্বাধীনতার রক্ষার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। উপদেষ্টা সি আর আববারের মন্তব্যের ভিত্তিতে, সরকার ও সমাজের যৌথ প্রচেষ্টা দিয়ে এই ধরনের উগ্রতা দমন করা এবং দেশের ঐতিহ্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments