২০২৫ সাল শেষ হতে চললেও বিশ্ব বিভিন্ন ক্ষেত্রের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। এই বছর ধর্ম, রাজনীতি, বিজ্ঞান, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, সংগীত, ক্রীড়া ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বহু ব্যক্তিত্ব মারা গেছেন। তাদের অবদান মানবসভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য ও ইতিহাসে স্মরণীয়।
ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ ফ্রান্সিস ৮৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি ইতিহাসের প্রথম লাতিন আমেরিকান পোপ হিসেবে চার্চের অতিরিক্ত জাঁকজমক কমানোর উদ্যোগ নেন এবং নারীদের নেতৃত্বে আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করেন। ভ্যাটিকানের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে অনুষ্ঠিত তার শেষকৃত্যে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেন।
ইসমাইলি মুসলিমদের আধ্যাত্মিক নেতা আগা খান (করিম আল হুসেইনি) ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যুবরণ করেন। প্রায় দেড় কোটি ইসমাইলি মুসলমানের উত্তরাধিকারসূত্রে ধর্মীয় নেতা হিসেবে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত এক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।
বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি মাত্র ৩৩ বছর বয়সে ঘাতকের আঘাতে শহীদ হন। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে (এসজিএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নভেম্বরে মারা যান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি (৮৪)। ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থি নেতা জ্যঁ-মারি ল্য পেন জানুয়ারিতে মারা যান। নাইজেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি, উরুগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট মারা যাওয়ার পাশাপাশি আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এই বছর মারা গেছেন।
এই বছর মারা যাওয়া ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অনেকেই তাদের ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য অবদান রেখে গেছেন। তাদের কর্ম, চিন্তা ও প্রভাব আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণা হয়ে থাকবে। তাদের মৃত্যু বিশ্বকে শোকাহত করেছে, কিন্তু তাদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা এই ব্যক্তিত্বদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। তাদের মৃত্যু বিশ্বকে একটি বড় ক্ষতি দিয়েছে, কিন্তু তাদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই বছর মারা যাওয়া ব্যক্তিত্বদের স্মরণে বিশ্ব সমাজ শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।



