জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বাড়িতে হামলা চালানোর ঘটনায় দলটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শনিবার সকালে ঢাকার গুলশানে হাওলাদার টাওয়ারে দলের জরুরি প্রেসিডিয়াম বৈঠকে এ ঘটনার নিন্দা জানানো হয়।
বৈঠকের পরে দলের দপ্তর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রেসিডিয়াম সভার প্রস্তাবে বলা হয়, জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যেই পার্টির চেয়ারম্যানের বাসভবনে এ বর্বর হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়েছে।
শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গুমানমর্দন এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত আনিসুল ইসলামের বাড়িতে আগুন দেয় বলে পুলিশের ভাষ্য। এসময় আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বা পরিবারের সদস্যরা কেউ সেখানে ছিলেন না।
প্রেসিডিয়াম বৈঠকের শুরুতে জুলাইযোদ্ধা ওসমান হাদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে তার জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের সঞ্চালনায় এ সভা হয়।
সভায় দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ধানমন্ডির ৩২ নম্বর, ছায়ানট, উদীচী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বাসভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে প্রকাশ্যে হত্যার পর অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিক নুরুল কবিরের ওপর হামলা, খুলনায় সাংবাদিক হত্যা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলার চেষ্টা, লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও শিশু হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগও জানান নেতারা।
সভায় অন্যদের মধ্যে মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, লিয়াকত হোসেন খোকা,জহিরুল ইসলাম জহির ও মোস্তফা আল মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ওপর আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সুযোগে গেল ৯ অগাস্ট ‘ঐক্য সম্মেলন’ করে আলাদা হয়ে যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদারসহ দলেন কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। রওশনের অংশ থেকে বেরিয়ে কাজী ফিরোজ রশীদ, আবু হোসেন বাবলাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
গত ৮ ডিসেম্বর আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এবং আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টি-জেপির নেতারা একত্রিত হয়েছেন।



