জাপান মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়িক প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই পাঁচটি দেশ হলো কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং উজবেকিস্তান।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচির আয়োজনে টোকিওতে এসব দেশের নেতাদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো শীর্ষ সম্মেলনের পর এই ঘোষণা দেওয়া হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরে মধ্য এশিয়ায় ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের ব্যবসায়িক প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েছে জাপান।
জাপানসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই অঞ্চলটির প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি আগ্রহী। বিশেষ করে বিরল খনিজ ও জ্বালানি সম্পদে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, বিপুল সম্পদ ও জ্বালানি থাকা মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
নেতারা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হন। পাশাপাশি রাশিয়া এড়িয়ে ইউরোপের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী ট্রান্স-ক্যাস্পিয়ান পরিবহন রুট সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের বিরল খনিজ রফতানি নিয়ন্ত্রণের পর মধ্য এশিয়া বিশ্ব রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাপান অঞ্চলটিতে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে চাচ্ছে। মধ্য এশিয়ার দেশগুলো খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এসব সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে।
জাপানের এই উদ্যোগ মধ্য এশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়াও, এটি এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে, এই প্রকল্পের সাফল্য নিশ্চিত করতে জাপানকে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
জাপানের এই পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করবে এবং এই অঞ্চলের সহযোগিতা বাড়াতে সাহায্য করবে।



