সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েলের মধ্যে একটি বিশাল সামরিক অস্ত্র চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির মূল্য ২৩০ কোটি ডলার। ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস এই চুক্তির সাথে জড়িত। এই চুক্তি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা খাতের ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই চুক্তির আওতায় আরব আমিরাত ইসরায়েলি কোম্পানি এলবিটের তৈরি অত্যন্ত উন্নত ‘জে-মিউজিক’ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ করছে। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি অত্যাধুনিক লেজার প্রযুক্তি নির্ভর। এটি আগত ক্ষেপণাস্ত্রের সেন্সর অকার্যকর করে দেয়, যা আকাশপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
চুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এই স্পর্শকাতর প্রযুক্তিটি যৌথ প্রকল্পের আওতায় সরাসরি আরব আমিরাতেই উৎপাদিত হবে। ইসরায়েল সরকার ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তির স্থানীয় উৎপাদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রদান করেছে। পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় আট বছর সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২০ সালে ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম চুক্তির’ মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে দেশ দুটির মধ্যে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতার পরিধি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এলবিট সিস্টেমস ইতিমধ্যে আমিরাতে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে এবং দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
সামরিক নিরাপত্তার স্বার্থে এবং স্পর্শকাতর প্রযুক্তির কারণে চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। তবুও এই বিশাল অংকের লেনদেনটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে এত বড় মাপের একটি গোপনীয় সামরিক চুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও অক্সফ্যাম এই চুক্তির কঠোর সমালোচনা করে জানিয়েছে যে, এসব উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।



