মাগুরা জেলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তানভীর হাসান জোহার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনাটি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার পর ঘটেছে। মাগুরা জেলা জজ আদালতের সামনের ‘জোহা ভবনে’ এ ঘটনাটি ঘটেছে।
মাগুরা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, রাতে কে বা কারা ভবনের পেছন দিক দিয়ে প্রবেশ করে মূল ফটক ও জানালার অংশে আগুন ধরিয়ে দ্রুত সরে পড়ে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় ভবনটি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, পানির বোতলে করে আনা পেট্রল ব্যবহার করে আগুন দেওয়া হয়। প্রতিবেশী কাজল বলেন, ‘আগুন দাউদাউ করে জ্বলতে দেখে সবাই একত্রিত হয়ে আগুন নেভাতে আসি। প্রথমে মনে হয়েছিল সিগারেট থেকে এ আগুন লেগেছে। কিন্তু পরে দুইটি ২ লিটার বোতলে পেট্রল আনার বিষয়টি চোখে পড়ে।’
প্রত্যক্ষদর্শী বজলু রহমান বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম সাধারণ কোনো আগুন। পরে যখন পানির বোতলে পেট্রল দেখতে পাই, তখন সন্দেহ হয় এটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ।’
জজ আদালতের মতো সংবেদনশীল এলাকার সামনে এমন ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলে ভবনের সামনে থাকা তরুণ ডেকোরেটরের মালিক তরুণ কুমার ভৌমিক বলেন, ‘বাড়িটিতে কেউ না থাকায় সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক।’
ভবনের কেয়ারটেকার ইনজার আলী বিশ্বাস বলেন, ‘আমি নিজের জন্য ওষুধ কিনতে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে গিয়েছিলাম। খবর পেয়ে দ্রুত এসে দেখি জানালার অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।’
ঘটনার বিষয়ে জিডিসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘এটি একটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’
মাগুরা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এই ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।



