গাজা উপত্যকায় খাদ্য সংকট প্রকট হলেও সাময়িকভাবে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি কমেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গাজার মোট জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশেরও বেশি এখনও তীব্র খাদ্য সংকট ও পুষ্টিহীনতার হুমকির মুখে রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, গাজার অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চল ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার ফলে সেখানে কৃষিজমি ও বসতিগুলো দুর্গম হয়ে পড়েছে।
গুতেরেস স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আরও ক্রসিং দরকার, জরুরি সামগ্রী প্রবেশে বাধা তুলে নিতে হবে, প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে হবে, গাজার ভেতরে নিরাপদ চলাচলের পথ তৈরি করতে হবে এবং এনজিওসহ মানবিক সংস্থাগুলোর প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) রিপোর্টেও বলা হয়, গাজায় সাময়িকভাবে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি কমলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনও সংকটজনক। রিপোর্টে জানানো হয়, হামলা কমা এবং মানবিক ও বাণিজ্যিক খাদ্য সরবরাহ বাড়ায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা হ্রাস পেয়েছে, কিন্তু পুরো অঞ্চল এখনো বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে।
গুতেরেস গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরুতে ইসরায়েলের অনীহা নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল চূড়ান্ত নিহত একজন জিম্মির লাশ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে যাবে না বলে জানালেও এতে অগ্রগতি থেমে থাকা উচিত নয়।
পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীর হামলা, জমি দখল, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে দখলকৃত এলাকায় পরিস্থিতি দ্রুত বিপর্যস্ত হচ্ছে। উত্তরের পশ্চিম তীর থেকে সেনা অভিযানের কারণে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের এই বক্তব্য গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতির উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আবারও এই অঞ্চলের দিকে ফিরেছে। এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য সকল পক্ষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



