জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমানে লন্ডন সফরে রয়েছেন। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার লন্ডনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি মাত্র একদিনের জন্য এবার লন্ডনে গেছেন। সময় থাকলে তারেক রহমানের সাথে দেখা করতেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু সুযোগ নেই, তাই তিনি এ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঠিক সময়েই হবে, পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। আমাদের চিন্তা হচ্ছে অন্ততপক্ষে পাঁচ বছরের জন্য আমাদের একটি জাতীয় সরকার হওয়া উচিত।
ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক সংসদীয় আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট সীমা মালহোত্রার আমন্ত্রণে তিনি একদিনের সফরে লন্ডনে যান। লন্ডনে নির্ধারিত কার্যক্রম শেষে তিনি সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালন করতে যাবেন বলে জানা গেছে। ২১ ডিসেম্বর তার দেশে ফেরার কথা।
লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নির্বাচন নিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, নির্বাচন হবে, নির্বাচনের পরে যদি আমরা বিরোধী দলে বসি, সরকারি দলে যারা যাবে তাদের সংগত সব ব্যাপারে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করবে, তাদের চাইতে হবে না। আমাদের যদি জনগণ তাদের ভালোবাসা দিয়ে নির্বাচিত করেন, আমরা বলেছি আমরা ভিন্ন চিন্তা করছি।
বৃহস্পতিবার সীমা মালহোত্রার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আগামীতে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের মজবুত ভিত্তি পাওয়া, আইনের শাসন এবং সুবিচার সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা, পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানো এবং এর পাশাপাশি আঞ্চলিক এবং দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক বিষয়ই আমরা আলোচনা করেছি, তিনি খুবই আন্তরিক ছিলেন।
নির্বাচন নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে যারাই অংশগ্রহণ করবেন সকল স্টেকহোল্ডারদের আহ্বান জানাবে। তবে শর্ত দুটো, তা মানতেই হবে, প্রথমত তারা নিজেরা দুর্নীতি করবেন না এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবেন না। ২ নম্বর শর্ত হচ্ছে বিচার সবার জন্য এবং এখানে কেউ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। এই শর্ত যারা মানবেন তাদের সাদর আমন্ত্রণ জানাব।
ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, জামায়াতে ইসলামি আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক। তবে তারা দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত একটি নির্বাচন চাইছে।
জামায়াতে ইসলামির এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামির ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আগ্রহের সাথে নজর রাখছেন।



