জার্মানির আহেন শহরের একটি আদালতে এক ব্যক্তিকে ৮.৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি তার স্ত্রীকে বহু বছর ধরে নিশ্চেতন করে ধর্ষণ করেছেন এবং এসব অপরাধমূলক কাজ অনলাইনে প্রকাশ করেছেন।
এই ব্যক্তি, যার নাম শুধুমাত্র ফার্নান্ডো পি হিসেবে পরিচিত, তাকে আদালত মানবদেহে গুরুতর ক্ষতি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার স্ত্রীকে তাদের বাড়িতে নিশ্চেতন করে ধর্ষণ করেছেন।
আদালতের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ফার্নান্ডো পি এই ধর্ষণের ভিডিও অনলাইনে শেয়ার করেছেন। এই বিচারকার্য প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ দরজার আড়ালে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে ফার্নান্ডো পি’র স্ত্রীর পরিচয় গোপন থাকে।
ফার্নান্ডো পি’র স্ত্রীর আইনজীবী জানিয়েছেন, তার মক্কেল এই বিচারকার্যে তার অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই রায় যা ঘটেছে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে পারে না, তবে এটি তাকে কিছুটা সাহায্য করতে পারে এই ঘটনাগুলি প্রক্রিয়া করতে।
এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। জার্মান মিডিয়া জানিয়েছে, এই মামলাটি ফ্রান্সে গত বছর ঘটেছে একটি মামলার সাথে মিল রয়েছে। সেই মামলায় এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীকে নিশ্চেতন করে ধর্ষণ করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
জার্মানির ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ অফিস জানিয়েছে, নিশ্চেতন করে ধর্ষণের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা প্রায় সবাই নারী। এই ধরনের অপরাধ সাধারণত বিবাহ, সম্পর্ক, পরিবার বা ঘনিষ্ঠ পরিচিতদের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ব্যবহার করে সংঘটিত হয়।
এই মামলাটি নারীর প্রতি সহিংসতার একটি উদাহরণ। এই ধরনের অপরাধ বিশ্বব্যাপী একটি বড় সমস্যা। এই অপরাধগুলি প্রতিরোধ করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
এই মামলাটি আমাদেরকে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে। আমাদের এই অপরাধগুলি প্রতিরোধ করার জন্য একসাথে কাজ করতে হবে।



