বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দুই সংবাদপত্রের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকা শুক্রবার প্রকাশিত হতে পারেনি।
এই হামলার ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনা জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে। তার মৃত্যুর পর বিক্ষোভকারীরা ঢাকার রাস্তায় নেমে আসে এবং তার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানায়। এসময় কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, রাজধানীতে কয়েকটি ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের প্রধান কার্যালয় ব্যাপক ভাঙচুর ও আগুনের কারণে পত্রিকা প্রকাশিত হতে পারেনি। এই দুই সংবাদমাধ্যমের অনলাইন পোর্টালও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তাঁরা ধোঁয়ায় ভরা ভবন থেকে ২৭ জন কর্মীকে উদ্ধার করেন।
এই ঘটনায় প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি বলেন, এই হামলা শুধু প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর করা হয়নি; এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমতের প্রকাশ ও মতবৈচিত্র্যের ওপর করা একটি হামলা। এই ঘটনার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এএফপি বার্তা সংস্থা এবং এপি বার্তা সংস্থা এই ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট আরও জটিল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।



