চট্টগ্রামে ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন স্বতন্ত্র সংসদ প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তাকে ১২ই ডিসেম্বর ঢাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শহরের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। জুমার নামাজের পর এসব অনুষ্ঠান শুরু হয়। জুলাই ঐক্যের ব্যানারে একটি মিছিল আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদ থেকে বের হয়। এতে স্টুডেন্টস এগেইনস্ট ডিসক্রিমিনেশন (এসএডি), আপ বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা ও কর্মীরা অংশ নেন।
মিছিলটি চেরাগী পাহাড় মোড় দিয়ে জামালখানে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই ঐক্য চট্টগ্রামের প্রধান সমন্বয়ক আবরার হাসান রিয়াদ সমাবেশে বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, হাদির হত্যা জুলাই আন্দোলনকে দমাতে পারবে না। প্রত্যেক জুলাই কর্মী একজন হাদি, আর একজনকে হত্যা করে জুলাই শক্তিকে থামানো সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, হাদি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় নিহত হন। হাদি বারবার বলেছিলেন, সংগ্রাম একদিনের নয়, বরং এটি একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া।
সাবেক চট্টগ্রাম নেতা ইবনে হোসেন জিয়া অভিযোগ করেন, যারা উৎখাত আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্রয় দিয়েছেন এবং তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেছেন, তাদের উচিত হাদির হত্যার দায়িত্ব নেওয়া। তিনি আরও অভিযোগ করেন, উৎখাত শাসকগোষ্ঠীর কর্মীরা এখন জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে এবং গুলি করছে।
সমাবেশে বক্তারা হাদির জন্য ন্যায়বিচার দাবি করেন এবং জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান। তারা কর্মীদেরও উস্কানিমূলক বক্তব্যের ফাঁদে না পড়ে জুলাই আন্দোলনের স্বীকৃত নেতৃত্বের নির্দেশনা মেনে চলতে বলেন।
এদিকে, ইসলামি ছাত্র শিবির, চট্টগ্রাম শহর ইউনিট একটি মিছিল বের করে এবং জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত করে।
মিডিয়া অফিসে সম্ভাব্য হামলার উদ্বেগের মধ্যে, কর্ণফুলি টাওয়ারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ভবনটি বেশ কয়েকটি মিডিয়া অফিসের অবস্থান।
ওসমান হাদির মৃত্যু চট্টগ্রামে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিক্ষোভকারীরা ন্যায়বিচার দাবি করছেন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের আহ্বান জানাচ্ছেন। এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ কী হবে তা এখনও অস্পষ্ট। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, ওসমান হাদির মৃত্যু চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।



