প্রথম আলোর অফিসে হামলার ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং স্বার্থান্বেষী মহল সংগঠিত হয়ে এ আক্রমণ চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন পথভ্রষ্ট করা ও আন্তর্জাতিকভাবে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে এ হামলা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেছেন, তাদের সাংবাদিকরা পত্রিকার জন্য ও অনলাইনের জন্য কাজ করছিল, তখন এ হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি বলেছেন, শরিফ ওসমান হাদির দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই সংগঠিত আক্রমণ চালিয়েছে।
সাজ্জাদ শরিফ বলেছেন, তাদের সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকিতে ছিলেন, প্রচণ্ড নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিলেন। তাঁরা বাধ্য হয়ে পত্রিকা প্রকাশ না করে অফিসের কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যান। গত ২৭ বছরে প্রথম আলো প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম আজকে তাদের পত্রিকা প্রকাশিত হয়নি। তাদের অনলাইনও বন্ধ আছে কাল রাত থেকে।
প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক বলেছেন, বাংলাদেশের বাকস্বাধীনতা, ভিন্নমতের প্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর একটি কঠিন আক্রমণ করা হয়েছে। শুধু প্রথম আলোর ওপর নয়, একইসঙ্গে ডেইলি স্টারে আক্রমণ হয়েছে।
সাজ্জাদ শরিফ বলেছেন, তারা খুব সুস্পষ্টভাবে বলতে চায়, এটি একটি কালো দিন, সংবাদমাধ্যমের জন্য, বাক স্বাধীনতার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য। তাদের বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে যে আগামী নির্বাচনকে পথভ্রষ্ট করার জন্য এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি, বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিকভাবে নেতিবাচক করে তোলার জন্য ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে সাংবাদিক সমাজ ক্ষুব্ধ। তারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে। সরকারকেও এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিচারের জন্য পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে। সরকারকেও এই ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও উদ্বিগ্ন। তারা বাংলাদেশ সরকারকে এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিচারের জন্য পদক্ষেপ নিতে বলছে। এই ঘটনা বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।



