22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাযুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী শিক্ষকদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী শিক্ষকদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী শিক্ষকদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। দেশটির ভিসা নীতি সংকটের কারণে অনেক শিক্ষকের কাজের অনুমতি বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে তারা দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮১ লাখ শিক্ষকের মধ্যে ৮ লাখ ৫৭ হাজার ২০০ জনই অভিবাসী। তাঁদের অনেকেই প্রি-স্কুল, প্রাথমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠদান করেন। বিদেশি শিক্ষক নিয়োগের হার বাড়লেও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি তাঁদের জীবনে বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসির কমিউনিকিডস প্রি-স্কুলের শিক্ষক সুজানা এই সংকটের মুখে পড়া অন্যতম। গুয়াতেমালার সহিংসতা থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সুজানা গত দুই বছর শিশুদের শেখানোর মাধ্যমে নিজের জীবন গড়তে শুরু করেছিলেন। কিন্তু গত অক্টোবরে জানতে পারেন তাঁর কাজের অনুমতি নবায়ন হয়নি। এরপরই শুরু হয় অনিশ্চয়তার পথ।

সুজানা বলেন, অনেক ছোট শিক্ষার্থী এখনও এই ঘটনা বুঝতে পারে না। তবে বিদায় জানাতে গিয়ে শিশুদের কান্না তাঁর মন ভারী করে দিয়েছিল। তিনি বলেন এক সপ্তাহের মধ্যে সব হারিয়ে ফেলেছি। আমাকে দেখতে পেয়ে শিশুরা জড়িয়ে ধরেছিল।

২০১৯ সালের এক প্রতিবেদন বলছে দেশটিতে বিদেশে জন্ম নেওয়া শিক্ষক বাড়ছে। শুধু ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন দেশ থেকে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষক এ দেশে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষক সংকটও রয়েছে। তবুও অভিবাসী শিক্ষকরা নীতিগত ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অভিবাসীদের বহিষ্কার নীতি স্কুলগুলোতে শিক্ষক ঘাটতি আরও বাড়াবে। একেকটি শ্রেণিকক্ষে যেসব শিক্ষক ভাষা শিক্ষা, যত্ন ও মানসিক উন্নয়নের দায়িত্বে ছিলেন তাদের হঠাৎ হারানো শিশুদের গভীরভাবে আঘাত করছে।

কমিউনিকিডস প্রি-স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাউল ইচেভারিয়া জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষকই অভিবাসী। ভেনেজুয়েলা থেকে আসা বেশ কয়েকজন শিক্ষকের অস্থায়ী কাজের অনুমতিও বাতিল হয়েছে।

তিনি বলেন শিশুরা তাদের শিক্ষককে পরিবারের সদস্যের মতো মানে। হঠাৎ শিক্ষককে হারালে তারা ভয় পায়, কাঁদে, মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। শিক্ষার ক্ষতি হয়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য শিক্ষা সংকটের তথ্য তুলে ধরছে। প্রয়োজনীয় বেতন না পাওয়া, কাজের চাপে শিক্ষক ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানাচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিক্ষকের অনুপস্থিতি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়তে পারে, যা শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিবাসী শিক্ষকদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে উঠায় শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বড় সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট সমাধানের জন্য সরকার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে।

পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: অভিবাসী শিক্ষকদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে উঠার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থায় কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে? আপনি কীভাবে এই সংকট সমাধানে অবদান রাখতে পারেন?

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments