ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের যেকোনো নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটি বলেছে, ভারত তার সভ্যতাগত নীতি ও মানবিক ঐতিহ্য দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে গুরুতর সংকট বা অস্তিত্বের হুমকিতে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, উপাসনালয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের বিষয়েও প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশি মিডিয়ার একাংশে ভারতবিরোধী প্রচারণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরার জন্য এবং ভুল তথ্য মোকাবিলায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ইউনিট স্থাপনেরও সুপারিশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে গত বছর জুলাই-আগস্ট মাসে গণ-আন্দোলনের সময় ১ হাজার ৪ শর বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যান। যদিও তিনি নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে ‘উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন’ বলে অভিযোগ আছে।
কমিটি বলেছে, ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক কার্যকলাপের অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘ভারত সরকার তাঁকে (হাসিনা) সে দেশের ভূখণ্ডে থেকে রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ দেয় না। মানবিক বিবেচনার পাশাপাশি ভারত কঠোরভাবে এই নীতি মেনে চলে যে ‘আমাদের ভূখণ্ড থেকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালিত হবে না।’
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়েও প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের যেকোনো নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।



