এনসিপির একজন নেত্রী জান্নাতারার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জান্নাতারার কক্ষের টেবিলে বিষণ্নতামুক্ত থাকার কিছু ট্যাবলেট পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জান্নাতারার দুবার বিয়ে হয়েছিল এবং প্রতিবারই তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। পারিবারিক অশান্তি থাকায় তিনি বিষণ্নতা থেকে আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে হচ্ছে।
জান্নাতারার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার নজিপুর পৌরসভার পত্নীতলায়। তাঁর বাবা পেশায় কৃষক। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জান্নাতারা দ্বিতীয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে জান্নাতারার চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান ছুটে আসেন। দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে মেহেদী হাসান জানান, জান্নাতারার দুই ঘরে এক ছেলে (৪) ও এক মেয়ে (২) রয়েছে। ছেলে–মেয়েরা তাদের নিজ নিজ বাবার কাছে থাকে।
জান্নাতারা সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র মেডিকেল কলেজ থেকে নার্সিং পাস করেছিলেন। তিনি গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। জান্নাতারা এনসিপির ধানমন্ডি থানা শাখার যুগ্ম সমন্বয়ক ছিলেন। তাঁকে শেষবার দেখতে বিকেলে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনসহ কয়েকজন ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনে যান।
সামান্তা শারমিন জানান, জান্নাতারার মৃত্যুর জন্য রাষ্ট্রকে দায়ভার বহন করতে হবে। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা জানিয়েছেন, জান্নাতারা গত মাসে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়ের দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জিয়ার কবর খুঁড়তে চাওয়া রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজনকে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিয়েছিলেন। এর পর থেকে আওয়ামী লীগ জান্নাতারাকে সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, জান্নাতারার মৃত্যুর তদন্ত চলছে। এনসিপি জানিয়েছে, জান্নাতারার মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।



