বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে যাত্রী চলাচল গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৬% কমে গেছে। এটি সরকারের জন্য উল্লেখযোগ্য রাজস্ব ক্ষতির কারণ হয়েছে।
গত বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর মাসে, ৬০৫,৮১৮ জন পাসপোর্টধারী এই চেকপোস্টের মাধ্যমে ভ্রমণ করেছিলেন। এই বছর একই সময়ে, এই সংখ্যা ২০২,৯৬৯ জনে কমে গেছে।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে, ভারতে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গত বছরের প্রথম চার মাসে, ৩৫৮,৯৫২ জন বাংলাদেশি ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন, যা এই বছর কমে দাঁড়িয়েছে ১১৪,৭৩৪ জনে।
একইভাবে, ভারত থেকে বাংলাদেশে আগতদের সংখ্যাও কমে গেছে। গত বছরের প্রথম চার মাসে, ২৯৬,৮৬৬ জন ভারতীয় বাংলাদেশে এসেছিলেন, যা এই বছর কমে দাঁড়িয়েছে ৮৮,২৩৫ জনে।
এই পরিস্থিতির জন্য ভারত সরকার কর্তৃক বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা নিয়ম কঠোর করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বেনাপোল ল্যান্ড পোর্টের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ভিসা জটিলতার কারণে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের সংখ্যা কমে গেছে, যার ফলে সরকারি রাজস্ব কমে গেছে।
এই পরিস্থিতি উভয় দেশের জন্যই উদ্বেগজনক। ভারত সরকার ভিসা ফি থেকে প্রায় ৪.২ কোটি টাকা হারিয়েছে, যখন বাংলাদেশ সরকার ভ্রমণ করের রাজস্ব থেকে প্রায় ৩.২ কোটি টাকা হারিয়েছে।
বেনাপোল চেকপোস্টের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ২৮ লাখ মানুষ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভ্রমণ করে। তবে, গত বছরের আগস্ট মাস থেকে ভারত সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা নিয়ম কঠোর করেছে, যার ফলে যাত্রী চলাচল কমে গেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল চেকপোস্টের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ জন যাত্রী ভ্রমণ করছে। এই পরিস্থিতি উভয় দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ভবিষ্যতে, ভারত ও বাংলাদেশ সরকারকে এই পরিস্থিতির সমাধান নিতে হবে। ভিসা নিয়ম শিথিল করা এবং যাত্রী চলাচল সহজ করা উভয় দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অবশেষে, বেনাপোল চেকপোস্টে যাত্রী চলাচল কমে যাওয়ার ঘটনা উভয় দেশের জন্য উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতির সমাধান নিতে হবে উভয় দেশের সরকারকে।



