দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলায় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (এসিসি)।
এসিসির মহাপরিচালক মোঃ আখতার হোসেন এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন কামাল ক্ষমতা অপব্যবহার ও অসততার মাধ্যমে প্রায় ২২.৫৮ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও দখল করেছেন।
তদন্তে দেখা গেছে, তিনি নিজের নামে পরিচালিত নয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ৮৭.৪৬ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন।
এসিসি অভিযোগ করেছে, এসব অর্থ অবৈধ উৎস থেকে লুকাতে ও বৈধ উৎস হিসেবে পরিবর্তন করতে পাচার করা হয়েছে।
মামলায় কামালের স্ত্রী লুৎফুন তাহমিনা খান, ছেলে শফি মোদদাসির খান জ্যোতি ও মেয়ে শাফিয়া তাসনিম খানকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত অনুযায়ী, তারা সকলেই প্রায় ১৫.৪৫ কোটি টাকার অবৈধ উৎস লুকাতে সাহায্য করেছেন নিজেদের নামে বাড়ি নির্মাণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানোর মাধ্যমে।
এসিসির তদন্তে দেখা গেছে, কামালের মোট সম্পদের পরিমাণ ২৮.১৭ কোটি টাকা, যার বিরুদ্ধে আইনি উৎস থেকে আয়ের পরিমাণ মাত্র ৫.৫৯ কোটি টাকা।
এসিসি তদন্তের ভিত্তিতে আসাদুজ্জামান খান কামাল ও অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
এই মামলার পরবর্তী আদালতের পরিস্থিতি খুব শীঘ্রই জানা যাবে।
দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলায় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করার ঘটনাটি দেশের আইনবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
তারা বলছেন, এই ধরনের মামলা দেশের আইন ব্যবস্থার শক্তি ও স্বাধীনতার একটি প্রমাণ।
তবে, এই মামলার পরবর্তী ধাপগুলো খুব সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
কারণ, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলায় অভিযুক্তরা প্রায়ই তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে থাকেন।
তাই, এই মামলার বিচার নিশ্চিত করতে হলে আইন ব্যবস্থাকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ থাকতে হবে।
এছাড়াও, এই মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় স্বাচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এতে করে দেশের আইনবিদ ও জনগণের আস্থা আইন ব্যবস্থায় বাড়বে।
এবং, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে দেশ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।



