বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মানসুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বছরের শেষ নাগাদ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩২.৪৮ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুসারে এই পরিমাণ ২৭.৮১ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপের ফলে সামগ্রিকভাবে আর্থিক খাত স্থিতিশীল হয়েছে, তবে ব্যাংকিং খাতে শাসনের দুর্বলতা এখনও একটি প্রধান উদ্বেগ। তিনি আরও জানিয়েছেন, ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল রাখতে এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যদিও কিছু ব্যাংক উল্লেখযোগ্য মূলধন ঘাটতি এবং উচ্চ স্তরের নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) এর সম্মুখীন হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আশা করছেন, এনপিএল অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি, কিন্তু শীঘ্রই পরিস্থিতি উন্নতি হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলোতে সুশাসন পুনরুদ্ধার করা একটি অগ্রাধিকার, যদিও এটি টেকসই ফলাফল প্রদানে সময় লাগবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক একীকরণের পদক্ষেপগুলির বিষয়েও আলোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাঁচটি ব্যাংকের একীকরণের ফলে জমা দাতারা তাদের টাকা ফেরত পাবেন। তিনি আশা করছেন, একীকৃত ব্যাংকগুলি তাদের প্রথম বছরেই লাভ করতে সক্ষম হবে।
অব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, নয়টি এনবিএফআই তাদের সমাধান পরিকল্পনার অধীনে তদন্ত করা হবে। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলির শেয়ারহোল্ডাররা কিছুই পাবেন না, কিন্তু জমা দাতারা তাদের টাকা ফেরত পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আশা করছেন, ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি শীঘ্রই উন্নতি হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন পুনরুদ্ধার করা এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের এই ঘোষণা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি সুস্পষ্ট সংকেত। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত আরও স্থিতিশীল এবং নিরাপদ হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের এই ঘোষণা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি সুস্পষ্ট সংকেত। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে।



