পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সাফল্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানি বাহিনী ভারতকে এক ‘চূড়ান্ত আঘাত’ দিয়েছে। এই ঘটনাটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য একটি বড় আঘাত বলে তিনি মনে করেন।
শেহবাজ শরীফ খাইবার পাখতুনখোয়ার হরিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ভাষণে এই কথা বলেন। তিনি বলেন, ৮৭ ঘন্টার সংঘর্ষের সময় পাকিস্তান তিনটি রাফায়েল বিমানসহ ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জাতীয় সংকল্পের সঙ্গে কাজ করেছে। তিনি জনসাধারণের দোয়াকে সামরিক সাফল্য বলে অভিহিত করেন।
ভারত এই ধরনের কোনো ক্ষতি স্বীকার করেনি এবং ধারাবাহিকভাবে পাকিস্তানের দাবি অস্বীকার করে আসছে। এর আগে, চলতি বছরের ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে সশস্ত্র হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হলে নয়াদিল্লি এর জন্য পাকিস্তানের ভূমিকাকে দায়ী করে।
সশস্ত্র হামলায় পর্যটকদের মৃত্যুর পর ভারত পাকিস্তানের সীমান্তের ভেতরে বিমান হামলা চালায়। পরবর্তীতে পাকিস্তানও ভারতে পাল্টা হামলা চালায়। সংক্ষিপ্ত কিন্তু মারাত্মক এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন নিহত হয়। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় উভয় দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছায়।
এই ঘটনার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। উভয় দেশই একে অপরের উপর অভিযোগ আনছে। এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের বিবৃতি এই পরিস্থিতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার বিবৃতি থেকে বোঝা যায়, পাকিস্তান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু এই বিবৃতি ভারতের সাথে সম্পর্কের উপরও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক কেমন হবে তা এখনও অনিশ্চিত। কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত, দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



