গত আমন পাটা মৌসুম থেকে শুরু করে বর্তমান শীতকালীন সবজি চাষ পর্যন্ত, অনেক জেলার কৃষকরা সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার কিনতে পারছেন না। কৃষক ও সরকারি কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন যে অসাধু ব্যবসায়ীরা একটি ‘কৃত্রিম সংকট’ তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করছে, বিশেষ করে নন-ইউরিয়া সারের ক্ষেত্রে। উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোর আলু চাষীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, ময়মনসিংহ, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও পটুয়াখালী জেলার কৃষকরা জানিয়েছেন যে তারা সরকারি মূল্যের চেয়ে নন-ইউরিয়া সারের জন্য ৫০ কেজি প্রতি বস্তায় ২০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিচ্ছেন।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বনেশ্বর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আমি এক বস্তা ট্রিপল সুপার ফসফেট সার ১,৮০০ টাকায় কিনেছি, যখন সরকারি মূল্য ১,৩৫০ টাকা। আমি ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট সারও ১,৫০০ টাকায় কিনেছি, যখন সরকারি মূল্য ১,০৫০ টাকা। সার শুধুমাত্র ডিলারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দিলেই পাওয়া যায়, এবং তারপরেও তারা কেনাকাটার রশিদ দিতে অস্বীকার করে।’
রাজাহার গ্রামের কৃষক হেলাল মৃধা বলেছেন, ‘সার শুধুমাত্র সরকারি মূল্যে বিক্রি হয় যখন কর্তৃপক্ষ ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। মোবাইল আদালত ডিলারদের জরিমানা করে, কিন্তু তারা আমাদের কাছ থেকে খরচ উদ্ধার করে। আসলে, শাস্তি কৃষকদের উপরই পড়ে। যদি ডিলারদের জরিমানা না করে কারাগারে পাঠানো হয়, তাহলে তারা আর এটা করবে না।’
গত সপ্তাহে, লালমনিরহাটের পটগ্রাম, হাটিবান্ধা ও কালীগঞ্জ উপজেলা এবং কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও উলিপুর উপজেলার কৃষকরা সরকারি মূল্যে সার চাইতে রাস্তা অবরোধ করেছেন, চারটি সারের দোকান ভাঙচুর করেছেন।
এর প্রতিক্রিয়ায়, স্থানীয় প্রশাসন প্রায় ১২,০০০ বস্তা অবৈধভাবে মজুদ করা সার জব্দ করেছে, এবং কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা পাঁচজন ডিলারকে জরিমানা করেছেন।
সার সংকট কৃষকদের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারকে এই সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, কৃষকরা তাদের ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দেবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
সরকারকে সারের দাম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সার উৎপাদন বাড়ানো, মজুদ নিয়ন্ত্রণ করা এবং কৃষকদের সার সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়াও, সরকারকে কৃষকদের সার ক্রয়ের জন্য ঋণ সুবিধা প্রদান করতে হবে।
শেষ পর্যন্ত, সার সংকট সমাধানের জন্য সরকার, কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে কৃষকদের সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে।



