গাজায় শীতকালীন ঝড়ের কারণে একটি চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মতে, তাবু, কম্বলসহ জরুরি আশ্রয় ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী সীমান্তে প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু ইসরায়েল এসব সহায়তা ঢুকতে বাধা দিচ্ছে।
গাজা সিটির শাতি শরণার্থী শিবিরে ঝড়ের সময় একটি ভবনের ছাদ ধসে পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয়জন ফিলিস্তিনিকে জীবিত উদ্ধার করেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তীব্র শীতের কারণে দুই সপ্তাহ বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে অপ্রতুল আশ্রয়ে বসবাসরত শিশু ও বৃদ্ধদের ঝুঁকির বিষয়টি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র বলেছেন, ঝড়ের কারণে গাজাজুড়ে বহু আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং মানুষের ব্যক্তিগত মালামাল নষ্ট হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে গাজাজুড়ে প্রায় ৩০ হাজার শিশু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনায় গাজায় যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীল রাখা, মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ওয়াশিংটন থেকে জানা গেছে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, গাজায় মানবিক সহায়তা অবশ্যই ‘নিঃশর্তভাবে’ প্রবেশ করতে দিতে হবে। তার মতে, ইসরায়েল লাখো মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ আটকে দিচ্ছে।
বৈঠকে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাও আলোচনা হয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এমন বাহিনী হলে তা অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে এবং যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে দ্রুত অগ্রসর হওয়া জরুরি।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, গাজা সিটির কেন্দ্রীয় এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছে একটি মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনায় তদন্ত চলছে।
গাজার ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে চলমান পরিস্থিতিকে ‘চরম মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই পরিস্থিতিতে গাজার জনগণের প্রতি সহায়তা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।



