চট্টগ্রামের একটি ব্যস্ত সড়কের পাশে দিনদুপুরে অস্ত্র উঁচিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, দিনদুপুরে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলির ঘটনা দেখে স্থানীয় একজন ব্যক্তি পুলিশের জরুরি সেবা–৯৯৯ ফোন করেন। সেখান থেকে খবর পেয়ে পাঁচলাইশ থানা–পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু এর আগেই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, হামজারবাগ এলাকায় মিজান ও জসিম নামের দুই ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করছেন। তাঁদের কাছে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর হয়ে ৮০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে সন্ত্রাসীরা। চাঁদা না পেয়ে তারা অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতে আসে। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, ওই এলাকার আমির হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম নামের আরও দুই ব্যক্তি তাঁদের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন সন্ত্রাসীদের ভয়ে। ঘটনার শিকার মিজান ও জসিমও মুখ খুলছেন না ভয়ে। পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান জানিয়েছেন, ঘটনার পর পুলিশ গিয়ে কাউকে পায়নি। সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে।
বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদের অনুসারী পরিচয় দিয়ে তারা চাঁদা দাবি করে আসছে। ঘটনার ভুক্তভোগীদের মামলা করার জন্য পরামর্শ দিলেও তাঁরা মামলা করতে আসেননি। একই দিন রোববার রাত ১০টার দিকে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বালুছড়া উত্তর কুলগাঁও এলাকায় চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের এক নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে ১৫ থেকে ২০টি গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতা আহমেদ রেজা নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। বর্তমানে তিনি যুবদলের পদপ্রত্যাশী বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। বড় সাজ্জাদের অনুসারী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ কারাগারে থাকলেও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনীর তৎপরতা থেমে নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাহিনীর অন্তত অর্ধশত সদস্য খুন, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাজ্জাদের অনুপস্থিতিতে মোহাম্মদ রায়হান, মোবারক হোসেন ইমন, বোরহান উদ্দিন কাদের ও নাজিম বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে পুলিশের ভাষ্য। খুন-অস্ত্রবাজিতে রয়েছে তিন স্তরের সন্ত্রাসী, নির্দেশ আসে বিদেশ থেকে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার তদন্ত করছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।



