বগুড়া শহর থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে, সদর উপজেলার গোকুল গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে, যা গোকুল মেধ নামে পরিচিত। এই স্থাপনাটি প্রায় ১৭২ কক্ষবিশিষ্ট এবং এর চারদিকে ইটের দেয়াল, ভাঙা সোপান আর অচেনা সব স্থাপত্য রয়েছে। স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ানো গল্প অনুসারে, এই স্থাপনাটি বেহুলার বাসরঘর ছিল।
গোকুল মেধের ইতিহাস খুবই পুরোনো। মধ্যযুগে প্রায় সমগ্র বাংলায় মঙ্গলকাব্য ধারা অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। এ সময় শতাধিক কবি বিভিন্ন নামে মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেন। এই কাব্যের পুরো আখ্যান আবর্তিত হয়েছে মনসার পূজা প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে। মনসামঙ্গল কাব্যে ঘুরেফিরেই বেহুলার বাসরঘরের কথা উল্লেখ রয়েছে।
গোকুল মেধের ভাঙা দেয়ালের মধ্যে দাঁড়িয়ে এই স্থাপনার অতীত সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন জাগে। কারণ, স্থাপনাটি যেমন রূপকথার মতো সাজানো লোকগল্পে পরিপূর্ণ, ঠিক তেমনই এর প্রতিটি ইট বহন করে বৌদ্ধ ঐতিহ্যের গভীর ছাপ। এই স্থাপনার চারপাশে ঘুরে বেড়ালে মনে হয়, এখানে একদিন কিছু ঘটেছিল, যা শুধু ইতিহাস নয়, হাজার বছরের লোককথারও অংশ।
গোকুল মেধের সাথে বেহুলা-লখিন্দরের করুণ প্রেমকাহিনি জড়িত। শত শত বছর ধরে লোকমুখে এই গল্প ছড়িয়ে আছে যে লখিন্দরের বাসরঘর ছিল এখানে, সেই ঘরেই কালনাগের কামড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এমনকি পুরোনো গ্রন্থে উল্লেখ আছে, মনসা দেবীর অভিশাপেই নাকি এই অনিষ্ট নেমে এসেছিল।
গোকুল মেধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এই স্থাপনাটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অংশ এবং এর সংরক্ষণ আমাদের দায়িত্ব। গোকুল মেধের ভাঙা দেয়ালের মধ্যে দাঁড়িয়ে আমরা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারি।
গোকুল মেধ পরিদর্শন করে আমরা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারি। এই স্থাপনাটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অংশ এবং এর সংরক্ষণ আমাদের দায়িত্ব। গোকুল মেধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য আমাদের সকলকে একত্রিত হতে হবে।



