চীনের বিজ্ঞানীরা একটি প্রোটোটাইপ মেশিন তৈরি করেছেন যা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে সক্ষম করতে সক্ষম সেমিকন্ডাক্টর চিপস তৈরি করতে সক্ষম হবে। এই মেশিনটি এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট লিথোগ্রাফি মেশিন নামে পরিচিত। এটি চীনের শেনজেন শহরে তৈরি করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
এই মেশিনটি তৈরি করা হয়েছে ডাচ সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহকারী এএসএমএল-এর প্রাক্তন প্রকৌশলীদের দ্বারা। চীন ২০২৮ সাল থেকে নিজস্ব ইউভি চিপস উত্পাদন শুরু করতে চায়। তবে অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩০ সালই একটি বাস্তবসম্মত সময়কাল হতে পারে।
ইউভি প্রযুক্তি খুবই জটিল এবং এটি ইন্টেল এবং টিএসএমসির মতো কোম্পানিগুলির চিপসের কেন্দ্রবিন্দু। যেকোনো কোম্পানি যেটি প্রতিযোগিতা করতে চায় তাদের অবশ্যই ইউভি প্রযুক্তির অ্যাক্সেস থাকতে হবে। চীনের প্রোটোটাইপ এখনও চিপস তৈরি করছে না, তবে এটি চিপ উত্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট আলো তৈরি করতে সক্ষম।
এই উন্নয়নটি যদি নিশ্চিত হয়, তবে এটি চীনকে প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে অনেক আগেই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ দেবে। এখন পর্যন্ত, পশ্চিমা কোম্পানিগুলি ইউভি প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ রেখেছে এবং মার্কিন সরকার এটি একটি দাবি হিসেবে ব্যবহার করেছে। চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং দেশটির নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর উত্পাদনের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
চীনের লক্ষ্য হল শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে চীন-তৈরি মেশিনে উন্নত চিপস তৈরি করা। চীন তার সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণরূপে বাদ দিতে চায়।
এই উন্নয়নের ফলে চীনের প্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারে। এটি চীনকে বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে।
এই প্রযুক্তির বিকাশ চীনের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি চীনের উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে উন্নীত করবে।
চীনের এই উন্নয়ন বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। এটি বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিকেও তাদের প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে উত্সাহিত করবে।
সবশেষে, চীনের এই উন্নয়ন বিশ্বকে একটি নতুন প্রযুক্তি যুগে প্রবেশ করতে সাহায্য করবে। এটি মানুষের জীবনকে আরও সহজ এবং উন্নত করবে।



