রাষ্ট্রের ইতিহাস গঠনে দূরদর্শিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের ইতিহাস শুধুমাত্র উন্নতির ধারাবিবরণী নয়, বরং এটি আক্রোশ, প্রতিহিংসা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দীর্ঘ দলিলও।
ব্যক্তি যখন অপমানের প্রতিশোধ লইতে চাহে, তখন তাহা ব্যক্তিগত সংকীর্ণতার প্রকাশ; কিন্তু রাষ্ট্র যখন প্রতিহিংসাকে নীতিতে পরিণত করে, তখন তাহার অভিঘাত হয় সুদূরপ্রসারী।
রুয়ান্ডা রাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে এক কঠিন অথচ শিক্ষণীয় উদাহরণ হাজির করে। ১৯৯৪ সালে হুতু ও তুতসি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘটিত গণহত্যায় প্রায় আট লক্ষ মানুষ নিহত হয়।
রুয়ান্ডা গড়িয়া তোলে ‘গাচাচা’ নামক এক সম্প্রদায়ভিত্তিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থা। ইহার লক্ষ্য ছিল কেবল অপরাধীর শাস্তি নহে, বরং সত্য উদ্ঘাটন, স্বীকারোক্তি, অনুশোচনা এবং সামাজিক পুনর্মিলন।
ইউরোপের ইতিহাসেও অনুরূপ শিক্ষা বিদ্যমান। উত্তর আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের সংঘাত-যাহা ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত-ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় পরিণত হইয়াছিল।
১৯৯৮ সালের ‘গুড ফ্রাইডে অ্যাগ্রিমেন্ট’ দেখাইয়া দেয়, সংলাপ ও রাজনৈতিক সাহস কীভাবে প্রতিহিংসার চক্র ভাঙিতে পারে।
এই সকল উদাহরণ আমাদের শিক্ষা দেয় যে, রাষ্ট্রের দূরদর্শিতা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থা কীভাবে সামাজিক পুনর্মিলন ও স্থিতিশীলতা অর্জনে সাহায্য করতে পারে।
আজকের বিশ্বে এই শিক্ষাগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রগুলির উচিত প্রতিহিংসার পরিবর্তে ন্যায়বিচার ও সামাজিক পুনর্মিলনের দিকে মনোনিবেশ করা।
এই পদ্ধতিতে, আমরা সম্প্রদায়গুলির মধ্যে বিশ্বাস ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে পারি এবং স্থিতিশীলতা ও শান্তি অর্জন করতে পারি।
সুতরাং, রাষ্ট্রের দূরদর্শিতা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থা হল ভালো ইতিহাস নির্মাণের মূল চাবিকাঠি।
আমাদের উচিত এই শিক্ষাগুলি মনে রাখা এবং তাদের অনুসরণ করা, যাতে আমরা একটি ভালো ভবিষ্যত গঠন করতে পারি।
এই লক্ষ্যে, আমাদের উচিত সম্প্রদায়গুলির মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং ন্যায়বিচার ও সামাজিক পুনর্মিলনের প্রচার করা।
এইভাবে, আমরা একটি ভালো ইতিহাস নির্মাণ করতে পারি এবং স্থিতিশীলতা ও শান্তি অর্জন করতে পারি।
আশা করি, এই শিক্ষাগুলি আমাদের সকলের জন্য উপকারী হবে এবং আমরা একটি ভালো ভবিষ্যত গঠন করতে সক্ষম হব।



