মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে লাতিন আমেরিকা এবং জাতিসংঘের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তেল ট্যাঙ্কারগুলিকে দেশে প্রবেশ ও প্রস্থান করা থেকে বিরত রাখার হুমকি নিয়ে আলোচনা করছে।
ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হল তেল রফতানি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে বিদেশী তেল বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার এবং রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর নেতৃত্বকে উৎখাত করার চেষ্টা করছে।
ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা চরমে। ট্রাম্প প্রশাসন ক্যারিবিয়ানদের দিকে সামরিক সম্পদ পাঠাচ্ছে, যার জবাবে মাদুরো নিজস্ব সৈন্য স্থানান্তর করছেন।
এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুটেরেস উভয় দেশকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার এবং অঞ্চলে শান্তি রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। গুটেরেস বুধবার মাদুরোর সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাম জাতিসংঘকে পূর্ণ সংঘাত রোধে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন না করার জন্য সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি জাতিসংঘকে তাদের ভূমিকা পালন করতে আহ্বান জানাচ্ছি। তারা এখনও পর্যন্ত উপস্থিত ছিল না। তাদের উচিত তাদের ভূমিকা নিতে এবং রক্তপাত রোধ করা।’
শেইনবাম গুটেরেসের আহ্বানের সাথে একমত হয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সংলাপ এবং শান্তির আহ্বান জানাচ্ছি, হস্তক্ষেপ নয়।’
ব্রাজিলে একটি মন্ত্রিপরিষদ সভায় এই সংঘাতের প্রভাব অনুভূত হয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এই বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি লাতিন আমেরিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন।’
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এই অঞ্চলের দেশগুলি একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার জন্য একসাথে কাজ করতে পারে।
জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এই সংঘাত সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আসতে উত্সাহিত করতে পারে এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে সহায়তা করতে পারে।
এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং উন্নয়নের উপর নজর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি যে উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে এই সংঘাতের সমাধান খুঁজে পেতে সক্ষম হবে।



