বাংলা সিনেমার খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলের বিরুদ্ধে তার এক তরুণী ‘ভক্তের’ করা মামলার তদন্ত করে মারধর বা অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগের ‘সত্যতা পায়নি’ পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের এসআই সুলতান মাহমুদ গত ২৪ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে বলেছেন, ‘সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে’ ডিপজল এবং তার সহযোগী মো. ফয়সালের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী কাইয়ুম হোসেন নয়ন গত সোমবার মামলার ধার্য দিনে ওই প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ‘নারাজি’ দাখিলের জন্য সময়ের আবেদন করেছেন।
নারাজি দাখিলের জন্য আগামী ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করে দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুলতান বলেন, তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছি। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাইনি। পরবর্তী বিষয় আদালত দেখবেন।
অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী নয়ন বলেন, সিআইডি পুলিশ বায়াসড হয়ে আসামিদের বাঁচিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে। এ প্রতিবেদনের বিষয়ে আমরা নারাজি দাখিল করব।
ডিপজল ও ফয়সালের বিরুদ্ধে মারধর ও অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগ এনে গত ৮ জুলাই আদালতে এ মামলার আবেদন করেন মোছা. রাশিদা আক্তার নামের এক তরুণী, সেখানে তিনি নিজেকে ডিপজলের ‘ভক্ত’ হিসেবে পরিচয় দেন।
আদালত সেদিন মামলার আবেদন গ্রহণ করে সিআইডি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তভার পেয়ে এসআই সুলতান নয় জনের সাক্ষ্য নেন।
‘নিরপেক্ষ’ দুই সাক্ষীর জবানবন্দির ভিত্তিতে তিনি প্রতিবেদনে লিখেছেন, ডিপজলের সঙ্গে দেখা করতে রাশিদা আক্তার গাবতলী পশুর হাটে যান। তাকে হাটের হাসিল ঘরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। তখন রাশিদা হাতে থাকা বোতলে থাকা ‘কেরোসিন জাতীয় কিছু’ নিজের শরীরে ঢেলে দেন। ঘটনার সময় ডিপজল বা ফয়সাল সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
তদন্ত কর্মকর্তা লিখেছেন, তদন্তের সময় তিনি জানতে পারেন, রাশিদা আক্তার অভিনেতা ডিপজলের ‘অন্ধ ভক্ত’। বিভিন্ন সময় তিনি ডিপজলের সঙ্গে দেখা করতে এফডিসিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন তিনি গাবতলী হাটে যান, কারণ তার ধারণা ছিল, ওই হাটের ইজারা ডিপজলের নামেই রয়েছে।
তখন গাবতলীতে কোরবানির পশুর হাট চলছিল। পশুর হাটের হাসিল ঘরের ভিতরে ডিপজল আছে ভেবে বাদী সেখানে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। তখন হাসিল ঘরের ম্যানেজারসহ অন্যান্য কর্মরত লোকজন ডিপজল সেখানে নেই জানিয়ে তাকে প্রবেশে বাধা দেয়।
এই ঘটনায় ডিপজল এবং তার সহযোগী মো. ফয়সালের বিরুদ্ধে মারধর ও অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু তদন্তে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এখন এই মামলার পরবর্তী ধারা আদালতে নিষ্পত্তি হবে। আগামী ১৪ জানুয়ারি নারাজি দাখিলের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
এই মামলার বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আইনজীবী ও তদন্তকারীরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। আদালতের রায় অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় সবাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক এ



