গত ত্রিশ বছরে, জ্যোতির্বিদরা আমাদের সৌরজগতের বাইরে ছয় হাজারেরও বেশি গ্রহ আবিষ্কার করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো গ্রহই পৃথিবীর মতো নয়। এই অবস্থা এখন পরিবর্তন হতে পারে।
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে মধ্য-ডিসেম্বরে শুরু হতে যাচ্ছে একটি নতুন দূরবীক্ষণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো পৃথিবীর অনুরূপ গ্রহ খুঁজে বের করা। টেরা হান্টিং এক্সপেরিমেন্ট নামক এই প্রকল্পটি প্রথমবারের মতো পৃথিবীর অনুরূপ গ্রহ খুঁজে বের করার জন্য একটি সিস্টেমাটিক অনুসন্ধান চালাবে।
এই প্রকল্পটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট ডিডিয়ের কোয়েলোজের নেতৃত্বে এক ডজন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে। কোয়েলোজ ২০১৯ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন একটি সূর্য-সদৃশ তারার চারদিকে ঘুরছে এমন একটি গ্রহ আবিষ্কার করার জন্য।
পৃথিবীর অনুরূপ গ্রহ খুঁজে বের করা কঠিন কাজ। কারণ পৃথিবীর অনুরূপ গ্রহগুলো শনাক্ত করা খুবই কঠিন। এর কারণ হলো শুধুমাত্র বড় গ্রহগুলোই সহজে শনাক্ত করা যায় যেগুলো তাদের তারার খুব কাছাকাছি ঘুরছে।
দূরবর্তী গ্রহগুলো সরাসরি দেখা যায় না, তাই জ্যোতির্বিদরা পরোক্ষ পরিমাপের উপর নির্ভর করেন। একটি সাধারণ কৌশল হলো তারার কম্পন শনাক্ত করা যা একটি গ্রহ তার চারদিকে ঘুরছে। এই কম্পন শনাক্ত করার জন্য, গবেষকরা তারার আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিবর্তন পরিমাপ করেন। এই পরিমাপগুলো গ্রহের ভর এবং এর বছরের দৈর্ঘ্য সম্পর্কেও তথ্য দেয়।
এই দূরবীক্ষণ যন্ত্রটি শীঘ্রই তারার আলোকে একটি ফাইবার কেবলের মাধ্যমে একটি স্পেকট্রোগ্রাফের সাথে সংযুক্ত করা হবে যাতে পৃথিবীর অনুরূপ গ্রহের চিহ্নগুলো শনাক্ত করা যায়।
একটি বড় গ্রহ যদি একটি ছোট তারার চারদিকে ঘুরছে, তাহলে এটি তারার একটি বড় কম্পন সৃষ্টি করে। আর যদি গ্রহটি তার তারার খুব কাছাকাছি থাকে, তাহলে এর কক্ষপথ খুব ছোট হয়।
পৃথিবীর অনুরূপ গ্রহ খুঁজে বের করার জন্য এই প্রকল্পটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের সৌরজগতের বাইরে জীবনের সন্ধান পেতে পারি। আসুন দেখি এই প্রকল্পটি আমাদের কী ধরনের তথ্য প্রদান করতে পারে।
পৃথিবীর অনুরূপ গ্রহ খুঁজে বের করার জন্য আমাদের কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত? আমাদের কী ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করার জন্য আমাদের আরও গবেষণা করতে হবে।



