বরিশাল নগরীর ওয়াপদা কলোনি ও কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী এলাকা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প ও টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এই এলাকাটি বর্তমানে বরিশালের সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি ও হানাদার বাহিনীর নির্যাতনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
গত বছরের ৫ আগস্ট একদল দুর্বৃত্ত বধ্যভূমির বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। ঘটনার দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে প্রায় দেড় একর জমির ওপর হানাদার বাহিনীর টর্চার সেল, বাঙ্কার, বধ্যভূমি ও সেতু সংরক্ষণ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেতুর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ‘স্মৃতিস্তম্ভ ’৭১’। ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর বধ্যভূমি ও টর্চার সেলটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গানবোট ও হেলিকপ্টারে করে বরিশালে প্রবেশ করে ওয়াপদা কলোনি দখল করে নেয়। সেখানে তারা সেনাক্যাম্প ও টর্চার সেল স্থাপন করে। কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী এই ক্যাম্প থেকেই ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হতো।
টর্চার সেলে আটক মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হতো। পরে তাদের মরদেহ কীর্তনখোলা নদীসংলগ্ন সাগরদী খালের তীরে ফেলে দেওয়া হতো। কীর্তনখোলার তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন কম্পাউন্ড এলাকা থেকে নদীর ঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত ধানক্ষেতের পুরো অংশই ছিল বরিশালের মূল গণকবর ও বধ্যভূমি।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এলাকাটি রাষ্ট্রীয়ভাবে বধ্যভূমি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। পরবর্তীতে ওয়াপদা কলোনি ও কীর্তনখোলা খালের তীরবর্তী প্রায় দেড় একর জায়গাজুড়ে বধ্যভূমি ও টর্চার সেল সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশন এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।
বরিশালের বৃহত্তম বধ্যভূমি এখনও অবহেলায় পড়ে আছে। এই ঐতিহাসিক স্থানটির সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য সরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য এই বধ্যভূমির গুরুত্ব অপরিসীম।
বরিশালের বৃহত্তম বধ্যভূমির সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এই ঐতিহাসিক স্থানটির সংরক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।



