ভুটান সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা তাদের জাতীয় ক্রিপ্টোকারেন্সি রিজার্ভ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে ‘মাইন্ডফুলনেস সিটি’ নামক একটি প্রকল্পে। এই প্রকল্পটি ভুটানের একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভুটান একটি বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যা ভারত ও চীনের মধ্যে অবস্থিত। এই দেশটি ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’কে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। তবে, এই নীতি সরকারকে ব্যাপক বেকারত্বের সমস্যা মোকাবেলা করতে সাহায্য করতে পারেনি, যার ফলে হাজার হাজার তরুণ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জন্য বিস্তৃত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, ভুটান ২০২৩ সালে ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ (জিএমসি) নামক একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। এই অঞ্চলটি ভারত সীমান্তের নিকটে অবস্থিত। কার্বন-নেতিবাচক ভুটান হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পগুলি একটি উল্লেখযোগ্য রাজস্ব উৎপন্ন করেছে, যা ভারতে বিদ্যুৎ রফতানি করে অর্জিত হয়েছে।
ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়াল ওয়াংচুক বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত করব যে প্রতিটি ভুটানিজ নাগরিক জিএমসি-এর একজন অভিভাবক, অংশীদার এবং সুবিধাভোগী হবেন।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘এই নীতি সমর্থন করার জন্য, আমি আজ ঘোষণা করছি যে আমরা ১০,০০০ বিটকয়েন (বিটকয়েন), যার মূল্য প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, বরাদ্দ করব। এই প্রতিশ্রুতি আমাদের জনগণ, আমাদের যুবক এবং আমাদের জাতির জন্য।’
ভুটানের মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ৩,৭১৮ ডলার, যা বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুসারে। এই দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ড্রুক হোল্ডিং এবং ইনভেস্টমেন্ট (ডিএইচআই) ২০২১-২০২২ সালে ক্রিপ্টোকারেন্সি কার্যক্রম প্রতিষ্ঠার জন্য ৫৩৯ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা মোট জিডিপির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এই দেশটি তারপর থেকে উল্লেখযোগ্য ক্রিপ্টো সম্পদ তৈরি করেছে, যদিও সঠিক মূল্য জানা যায় না।
ভুটানের এই সিদ্ধান্ত দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি দেশটির তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অবদান রাখবে।



